প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪ হাজার টাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিক্রি হচ্ছে শিশু-কিশোরীরা (ভিডিও)

নয়নার কাছে ইয়াসমিন বলতে এখন এই ছবিটিই

লিহান লিমা: মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে পড়ছে মানবপাচারকারীদের কবলে। কখনো ছিনতাই আবার কখনো ক্ষুধা, দারিদ্রতার শিকার হয়ে স্বইচ্ছায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে সন্তানদের পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

কুতুপালং শিবিরের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী নয়ন খাতুন বলেন, শরণার্থী শিবির থেকে এক পাচারকারী তার মেয়ে ইয়াসমিনকে ছিনতাই করে ভারতে পাচার করে দেয়। তখন ইয়াসমিনের বয়স ছিল ১৩। নয়না জানায়, ‘ওই পাচারকারীকে ভারতে আটক করা হয় ও ইয়াসমিনকে উদ্ধার করা হয়। ইয়াসমিন এখন কলকাতার অন্যান্য উদ্ধারকৃত পাচারের শিকার হওয়া কিশোরীদের সঙ্গে নিরাপদে আছে।’ নয়না বলেন, ‘একমাত্র আল্লাহই আমার প্রতিদিনের যন্ত্রণা বুঝতে পারেন। আমার ভারত যাওয়ার টাকা নেই। আমার মেয়ে আমাকে সতর্ক করে দিয়েছে যেন পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে যাওয়ার চেষ্টা না করি।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে নয়না ও ইয়াসমিন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ধর-পাকড়ের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ১৯৮২ সালে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করায় নয়নার মত রোহিঙ্গারা এখন আর মিয়ানমারের পাসপোর্ট পাবেন না।
নয়নার এই গল্প রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের প্রতিটি পরিবারের গল্প থেকে আলাদা নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, পাচারকারীরা রোহিঙ্গা শিবিরে বছরের পর বছর ধরে ওৎ পেতে আছে কিন্তু সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা অসহায় ও দরিদ্র। তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য ও বাসস্থান নেই । তাই পরিবারগুলো খুব সহজেই মেয়েদের কাজে দিতে (বিক্রি করতে) রাজি হয়ে যায়।
রোহিঙ্গা শিবিরে এক পাচারকারীর সাক্ষাতকার নিয়ে আল জাজিরা জানায়, ওই পাচারকারী কোন এক অজ্ঞাতনামা লোকের কথা বলে রোহিঙ্গা শিবির থেকে নারী পাচার করছে। ওই পাচারকারী বলে, ‘শিবিরের বাহিরে এক লোক ১২-১৪ বছরের মেয়ে খুঁজছে। তারা গৃহস্থালি কাজ নিয়ে অনেক ঝামেলার মধ্যে আছে তাই রান্নার জন্য কাজের লোক চায়। অজ্ঞাতনামা এক লোকের বরাত দিয়ে ওই পাচারকারী আরো জানায়, ওই লোক বলেছে যদি এই বয়সের কোন মেয়ে নিয়ে দিতে পারি তবে তারা ওই পরিবারকে প্রতিটি মেয়ের জন্য ৬০ ডলার ( ৪ হাজার ৮০০ টাকা) করে দিবে।’

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা নয়নাকে তার মেয়ের সঙ্গে আবার এক করতে কাজ করে যাচ্ছে। নয়নার আশঙ্কা সে হয়তো তার মেয়েকে না দেখেই মারা যাবে। তিনি বলেন, আমি এখন মেয়েকে ফেরত পাওয়া ছাড়া আর কিছুই চাই না। যদি আপনি আমার মেয়েকে ফেরত দিতে পারেন তবে আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমার ইয়াসমিন আমার হৃদয়ের একটি অংশ। আল জাজিরা।

সর্বাধিক পঠিত