প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইসিসিও নামাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল : সিকান্দার রাজা

স্পাের্টস ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফিরতি পর্বের ম্যাচ। বাংলাদেশ দল তখন ব্যাটিংয়ে। শুরুতে বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল তখন টাইগাররা। ঠিক সে সময়ে মাঠে সাব ফিল্ডার এনে বাইরে চলে যান জিম্বাবুয়ে দলের সহ-অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। কিন্তু কোন ইনজুরির কারণে নয়। গিয়েছিলেন নামাজ পড়তে। অথচ আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ইনজুরি ছাড়া মাঠের বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে রাজাকে মাঠের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেন আম্পায়াররা। নিত্যদিনের ঘটনাই এটা। এতে নিজেও মুগ্ধ রাজা। তাই মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করেন এ অলরাউন্ডার।

মূল সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্তির পর ক্রিকেট বিশ্ব মুসলিম দেশের সংখ্যা ৩টি। তবে এর বাইরে বাকি ৯টি দেশেও মাঝে মধ্যেই দুই একজন মুসলিম খেলোয়াড় প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। তেমনি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলে একমাত্র মুসলিম খেলোয়াড় রাজা। সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবেই নিজেকে তৈরি করেছেন। কিন্তু দলে একমাত্র মুসলিম হয়ে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে। উল্টো তাকে সমর্থন করেন সতীর্থরা। পরিবর্তন ডট কমের সঙ্গে একান্ত আলাপে বললেন, ‘মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে আমি গর্বিত। যখনই আযান হয়, আমার সতীর্থরা আমাকে মনে করিয়ে দেয় তোমার নামাজের সময় হয়েছে। কেউ আমাকে বলে এটা তোমার জন্য এলার্ম ঘড়ি। এটা আমার বিশ্বাস এবং ধর্মের প্রতি সতীর্থদের শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ।’

বর্তমানে আইসিসি ক্রিকেটের আইনে বেশ কঠিন কিছু পরিবর্তন এনেছে। এক সময়ে রানার নেওয়া ছিলো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। বদলেছে সে আইন। এমনকি ফিল্ডাররাও যখন তখন মাঠের বাইরে যেতেন। এখন ইনজুরি ছাড়া যাওয়ার কোন এখতিয়ার নেই। কিন্তু তারপরও নামাজের সময় হলে মাঠের বাইরে যান রাজা। আর আম্পায়াররা তাকে তখন আটকান না। যদিও অধিনায়ক ও আম্পায়ারদের অনুমতি নিয়েই যান। রাজার ভাষায়, ‘ক্রিকেটের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কোন খেলোয়াড় ইনজুরি ছাড়া কোন অতিরিক্ত ফিল্ডার মাঠে নিতে পারে না। কিন্তু নামাজের সময় কেউ আমাকে আটকায় না। একজন সাব ফিল্ডার নেওয়ার জন্য আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়। তার মানে আইসিসিও আমার ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যখন নামাজের সময় হয় তখন আমার অধিনায়ককে পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার জন্য বলি। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি এবং সে আমার ধর্ম এবং বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে।’

জন্মসূত্রে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড় নন রাজা। ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম তার।। ২০০১ সালে স্ব-পরিবারে জিম্বাবুয়ে অভিবাসিত হন রাজা। যদিও নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সে সমস্যা সমাধান হতে সময় লাগে ১০ বছর। তাই অভিষেকটা হতেও দেরি হয় তার। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ দলের বিবেচনায় ছিলেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। এরপর গত কয়েক বছরে নিজেকে জিম্বাবুয়ের প্রধান ক্রিকেটার হিসেবেই গড়েছেন রাজা।

তবে বর্তমানে অমুসলিম কোন ক্রিকেট জাতির একমাত্র মুসলিম খেলোয়াড় রাজা একাই নন। সে তালিকায় আছেন আরও বেশ কয়েকজনই। অস্ট্রেলিয়া দলে আছেন উসমান খাজা। মাঝে মধ্যে অবশ্য ফাওয়াদ আহমেদ সুযোগ পান। ইংল্যান্ড দলে মইন আলি ও আদিল রশিদ খেলছেন। দক্ষিন আফ্রিকায় বেশ দাপটের সঙ্গেই খেলে যাচ্ছেন হাশিম আমলা। আছেন ইমরান তাহীর ও ওয়াইন পারনেলদের মতো খেলোয়াড়রা। -পরিবর্তন

সর্বাধিক পঠিত