প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বজুড়ে চায়না হারবারের কালো থাবা

সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন ঃ
বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘুষ ফেরত দেওয়ার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক পরিবহন সচিব মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বিসিএস ১৯৮৪ ব্যচের কর্মকর্তা। ঘটনাটি নাটকীয়তা এবং ক্লাইমেক্সে ভরপুর। সংবাদপত্রে যতটুকু প্রকাশ হয়েছে তাতে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরের কোন একদিন ঢাকা সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহী দুজন চায়নিজ ব্যাক্তি তার সঙ্গে দেখা করতে সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। তারা ছিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিএইচইসি) প্রতিনীধি। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। কথাবর্তা শেষে চলে যাবার সময়ে ওই দুই ব্যক্তি সচিবকে উপহার হিসেবে একটি চায়নিজ চায়ের প্যাকেট দিয়ে এসেছিলেন। আগে বলে নেই ‘চায়নিজ চা’ মানে বিশাল ব্যপার। কথিত আছে চায়নিজরা চায়ের চেয়ে চায়ের প্যকেট তৈরীতে বেশি খরচ করে।

সৌজন্য তো আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। সচিব নজরুল ইসলাম সেই প্যাকেট বাসায় নিয়ে গেলেন। সন্ধ্যায় স্ত্রীকে বললেন, সুন্দর করে এক কাপ চায়নিজ চা বানিয়ে আনতে। বিশাল ভারি সেই চায়ের প্যাকেট খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ সচিবের স্ত্রীর। চায়ের বদলে প্যকেট ভর্তি ইউএস ডলার। গুনে দেখা গেলো বাংলাদেশী টাকায় সে ডলারের পরিমান পঞ্চাশ লাখ টাকা।

হতভম্ব মো. নজরুল ইসলাম। বিব্রত হয়ে পড়েন তিনি স্ত্রীর সামনে। বুঝে গেলেন উপহার নয়; চায়ের প্যাকেটে এসেছে ঢাকা সিলেট রোডের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আগাম ঘুষ। সাথে সাথে তিনি মোবাইলে ঘটনাটি জানান তার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। পরে মন্ত্রীর পরামর্শেই বিস্তারিত বর্ণণা লিখে সেই এক লাখ ডলার ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশের চীনা দূতাবাসে।

ঘটনাটি একটু ঘুরিয়ে ভাবা যাক। সচিবালয়ে বা মন্ত্রীদের দফতরে তো অনেক উপহারই আসে। দেখা গেল সচিব মো. নজরুল ইসলাম চায়নিজ চা পছন্দ করেননা। তিনি তার পছন্দের কাউকে অথবা সরকারের কোন উচ্চ পদে কর্মরত ব্যক্তিকে ওই চায়ের প্যকেটটি দিয়ে দিলেন। কি হতে পারতো তখন! কেউ হয়তো বড়লোক হতে পারতেন। আবার চাকরিটা খোয়াতেও পারতেন সচিব নজরুল ইসলাম। গত ১৫ জানুয়ারি সোমবার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সেদিন বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ঘুষ পাঠানোর দায়ে কালো তালিকাভূক্ত করা হয়েছে চায়না হারবারকে।

চায়না হারবার মূলত চায়নার একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। চায়না কমিউনিকেশন কন্সট্রাকশন কোম্পানির সহ প্রতিষ্ঠান হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে আসছে সংস্থাটি। বিশ্বের ৮০টি দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলোতে কাজ করছে সিএইচসি। দৈত্যকায় এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে ৬০টি শাখা অফিস ও ১০ হাজার কর্মী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পর কাজ পরিচালনা করছে চায়না হারবার। আর প্রায় সবত্রই কাজ পেতে তারা নানা ধরণের অনৈতিক পন্থা বেছে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আফ্রিকার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিদের অকল্পনীয় উৎকোচ দিয়ে তারা কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে এরকম অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে আফ্রিকার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। এছাড়াও যে দেশগুলোতে ইতোমধ্যে বদনাম কুড়িয়েছে সেখানে আবার নতুন নামে আর্ভিভ‚ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে ২৬টি প্রকল্পে ২ হাজার ১৫০ কোটি ডলার দিতে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। ওই ২৬ প্রকল্পের একটি হলো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প। ওই প্রকল্পে ১৬০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসারে, সিএইচইকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার জন্য ঠিক করে দেয় চীন সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৯ অক্টোবর সিএইচইসির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সই করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। চীন সরকারের বিনিয়োগ (জি টু জি) পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা। চায়না হারবারের সঙ্গে দর নিয়ে আলোচনার জন্য সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাছানের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি কমিটি ছিল। এই কমিটি প্রায় এক বছর আলোচনা করে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করে। কিন্তু চীনা কোম্পানি ওই টাকায় কাজ করতে রাজি হয়নি। এরপর থেকে কাজ নিয়ে দরকষাকষি চলাকালীন ওই ঘটনাটি ঘটলো। চায়না হারবারকে কালো তালিকাভ‚ক্ত করায় এখন বেশ জটিলতায় পড়তে হচ্ছে সরকারকে। একারণে বিঘিœত হতে পারে পদ্মাসেতু সংযুক্ত রেলপথ নির্মাণ। তাছাড়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে চীনের ঋণ প্রস্তাব।

গবেষণা ও তথ্যানুসন্ধান থেকে জানা গেছে, অনৈতিকভাবে কাজ পেতে চায়না হারবারের উৎকোচ দেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পর কাজ পেতে তারা বিশাল অংকের উৎকোচ দিয়ে আসছে। প্রয়োজনে রাজনীতিবিদ, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি। কাজ পেতে কখনো পেশি শক্তি আবার কখনও বিশাল অংকের উৎকোচ দেওয়া হয়। এ কারণে পৃথিবীর বহু দেশে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভ‚ক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকেও ঘুষ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ রাজধানীর কাফরুল থানায় দুদক কোকোর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সিঙ্গাপুরে ২৮ লাখ ৮৪ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার এবং নয় লাখ ৩২ হাজার ৬৭২ মার্কিন ডলার (সে সময়ের বাজারদর অনুযায়ী ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৮ টাকা) অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর অভিযোগপত্র দেয় দুদক। পরে ওই মামলায় কোকোর ছয় বছরের সাজাও হয়েছিল।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে ইউওবি ব্যাংকের জ্যাজের হিসাবে ২০০৫ সালের ৬ মে এবং ৩১ মে নয় লাখ ২০ হাজার ৯৮৬ দশমিক ৫৭ এবং আট লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৭ সিঙ্গাপুর ডলার জমা হয়। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি থেকে এই অর্থ পাঠানো হয়। একই বছরের ১ আগস্ট নিউইয়র্ক থেকে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাঠানো হয় আরও ৮ লাখ ২৯ হাজার ৭০৫ দশমিক ৮১ সিঙ্গাপুর ডলার। এর বাইরে জ্যাজের হিসাবে ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর আবারও এক লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার (তিন লাখ তিন হাজার ২৫৪ সিঙ্গাপুর ডলার) জমা হয়। ওই অর্থ জুলফিকার আলী নামে এক ব্যক্তি সিঙ্গাপুরের আরেকটি ব্যাংকের হিসাব থেকে হস্তান্তর করেন। জুলফিকার আলী টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিমেন্সের পরামর্শক।’

২০০১-২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে কোকো চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও জার্মানির সিমেন্স কোম্পানির কাছ থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার শর্তে এই টাকা ঘুষ হিসেবে নেন। চায়না হার্বারের জন্য যে কাজ তিনি জুটিয়ে দেন, সেটি ছিল চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন জেটি নির্মাণ। অন্যদিকে, সিমেন্সকে দিয়েছিল মোবাইল টেলিফোনের একটি ব্যবসা।

পাকিস্তানের বড় বড় সব প্রকল্পের ঠিকাদারও এই চায়না হারবার। বর্তমানে পাকিস্তানের ১১টি মেগা প্রকল্পের কাজ করছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং। এর মধ্যে চায়না পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডর (সিপিইসি) অন্যতম। গওদর গভীর সমূদ্রবন্দরের বেশ কটি জেটি নির্মাণ করেছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং। করাচীর নিকটবর্তি পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহতম সমুদ্র বন্দর পোর্ট কাশিমের সংস্কার ও বর্ধিতকরণের প্রকল্পটি তারা পেয়েছে ৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে। পাকিস্তানের মেগা প্রকল্পগুলোতে কাজ পেতে তারা বেছে নিয়েছে পাকিস্তান সরকারের সমান্তারলে চলমান দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের। ২০১৩ সালের ২২ মে ৬২ বিলিয়ন ডলারের সিপিইসি প্রকল্পের কাজের চুক্তির পুরোটাই তারা করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। পাকিস্তানের জনগন আজও জানে না কি আছে সেই চুক্তিতে। যে কারণে তীব্র অসন্তোষ মাঝে মধ্যে দানা বেঁধে ওঠে। এরকম এক বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে।

ডন পত্রিকার সূত্রানুযায়ী, পাকিস্তানে করাচি-পেশোয়ার মোটরওয়ে নির্মানের কার্যাদেশ পাওয়া চায়না স্টেট কনসট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেডকে ১০.৯৮ বিলিয়ন রুপির কর অব্যাহতি দেওয়া হয়। নির্মাণ উপকরণ ও পণ্য আমদানিতে কর ও শুল্ক অব্যাহতি দেয় পাকিস্তানের ফেডারেল ব্যুরো অব রেভিনিউ(এফবিআর)। এ প্রতিষ্ঠানটিও চীনের রাষ্টিয় মালিকানাধীন। গত ২৭ জানুয়ারি এ নিয়ে সংসদে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংসদরা। ধারণা করা হয় এর পেছনে রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের ম্যনেজ করা হয়েছিল। তাছাড়াও পাকিস্তান থেকে মূদ্রাপাচারের অভিযোগ রয়েছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান ন্যশনাল একাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর ( এনএবি) প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ‘এক্সিকিউটিভ বোর্ড মিটিং’ শিরোনামে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে- চায়না হারবারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছে স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, করাচি। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় এক্সিকিউটিভ বোর্ড ব্যাংকটিকে এই অভিযোগটি ফাইন্যান্সিয়াল মনিটরিং ইউনিটে পাঠানোর জন্য বলে। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান চায়না হারবারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং চার্জ আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পূনবীক্ষণ বিভাগের কাছে পাঠানোর সুপারিশ করে।

অভিযোগ রয়েছে জ্যমাইকাতেও। ‘অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে জ্যামাইকার বিমানবন্দরের কাজের কন্ট্রাকট নিয়েছে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত চায়না কোম্পানি।’ জ্যামাইকার কন্ট্রাক্টর জেনারেলের উদ্ধৃতি দিয়ে ৪ জুন ২০১২, দেশটির স্টাব্রোক নিউজ এই খবর প্রকাশ করে। খবরে বলা হয়-চায়না কোম্পানি ‘ভেররাত জগদো’ প্রশাসন ঘুষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যামাইকার শেডদি জাগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (সিজেআইএ) মেগা প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নিয়েছে। কোম্পানিটি মূলত বিশ্বব্যাংক কর্তৃক কালো তালিকাভূক্ত চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের অনৈতিকভাবে কাজ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খোদ জ্যামাইকার কন্ট্রাক্টর জেনারেল অফিস (ওসিজি)।

জ্যামাইকা গ্যালানারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওসিজি জানায়, চায়না হারবার মূলত চায়না কমিউনিকেশন কন্সট্রাকশন কোম্পানির (সিসিসিসি) একটি বর্ধিত অংশ। দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে চায়না হারবারকে ২০০৯ সাল থেকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

এদিকে ৪ অক্টোবর ২০১৬, দেশটির ‘ডিমিরার ওয়েভ নিউজ’ শেডদি জাগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ নিয়ে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে চায়না হারবারের কাজের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিমানবন্দরের স¤প্রসারণ কাজের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনটিতে চায়না হারবার কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সরকারের জরুরি বৈঠকের আহŸান করা হয়েছে। চায়না হারবার কোম্পানি ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালের মধ্যে বিমানবন্দরের স¤প্রসারণ কাজ শেষ করার জন্য চুক্তি করেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এতবড় কাজ শেষ করার চুক্তি করায় কাজের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান পত্রিকা ২০ ফেব্রæয়ারি ২০১৪, ‘বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নিষিদ্ধ চায়না হারবার কোম্পানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে কালো কালো তালিকাভূক্ত চায়না হারবার কোম্পানির সঙ্গে ক্রজ বার্থিং প্রকল্পের কাজের চুক্তি করেছে কেইমান দ্বীপপুঞ্জের সরকার।

আন্তর্জাতিক ক্রয় মানদÐের বাইরে চায়না হারবারের সঙ্গে এই চুক্তি করায় কেইমান দ্বীপপুঞ্জের প্রিমিয়ার ম্যাকিভিভা বুশ যুক্তরাজ্যের বিদেশ ও কমনওয়েলথ অফিসের বিরোধীতার মুখে পড়েন। তবে সমালোচনা স্বত্তে¡ও তিনি দৃঢ়তার সাথে একচেটিয়া এই চুক্তিতে অংশ নেন।
শুধু কেইমান দ্বীপপুঞ্জ নয়, বিশ্বব্যাংকের নিষেধাজ্ঞার পরও চায়না হারবার অবৈধ পন্থায় ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে বড় বড় প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে।

১৭ জুন ২০১৬, একই ধরণের খবর প্রকাশ করেছে জিম্বাবুয়ে ইন্ডিপিন্ডেন্ট পত্রিকা। তাদের শিরোনাম ‘চতুর চায়না কোম্পানি হাতিয়ে নিল ২ বিলিয়ন ডলারের কাজ’।

পত্রিকাটি লিখেছে-জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্য বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভূক্ত চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচসি) ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যয়েটব্রিজ-হারারে-চিরুন্ডু মহাসড়কের বিতর্কিত ডুয়ালাইজেশন প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। জ্যামাইকা, উগান্ডা, গিনি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতর্কিত ও নিম্নমানের কাজের জন্য সমালোচিত চায়না এই কোম্পানিটি।

২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি চায়না হারবারের দুর্নীতি ও জালিয়াতি নিয়ে ‘পিএনজি এক্সপোজড বøগে’ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। ‘সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রীর অলিঙ্গনে কুখ্যাত চায়না কোম্পানি’ শীর্ষক আর্টিকেলটিতে বলা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রী চায়না হারবারকে ‘সম্মানজনক’ কোম্পানি এবং ‘জেনুইন ইনভেস্টর’ হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি জানেননা, জালিয়াতির দায়ে বিশ্বব্যাংক চায়না হারবারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। প্রতিবেদনটিতে চায়না হারবারের কিছু অনৈতিক কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়।

৩ নভেম্বর ২০১৭, জিম্বাবুয়ে ইন্ডিপিন্ডেন্ট পত্রিকা চায়না হারবার নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘দুর্নীতিপরায়ণ চীনা কোম্পানি তাডিয়ে দাও’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে- GEIGER International একটি অস্ট্রিয়ান কোম্পানি। যারা ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যয়েটব্রিজ-চিরুন্ডু মহাসড়কের পুননির্মাণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যারা মূলত চীনের মালিকানাধীন চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগী। বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকায় থাকা চায়না হারবার কাজটি পেতে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের তারা চিনের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, GEIGER International এখন একটি বেসরকারী চীনা কোম্পানী। তারা ঝিজিয়াং বেয়ং হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সাথে জড়িত আছেন। যেটি থেকে এই প্রকল্পের ৭২ মিলিয়ন ইউএস ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। যাতে তারা সরঞ্জাম আনা নেওয়া ও ঋণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে।

GEIGER কে ঝিজিয়াং বেয়ং ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ প্রদান করায় এটা প্রমাণিত হয় যে উভয়ে এক ও অভিন্ন।

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র রাজাপাক্ষেকেও ঘুষ দিয়ে কাজ নিয়েছিল চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। ২৪ জুলাই ২০১৫ রয়টার্স্রে রিপোর্টে এমনটাই উঠে এসেছে।

শ্রীলংকার ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাক্ষেকে পুনঃনির্বাচিত করতে প্রচারণার জন্য ঘুষ প্রদানের সন্দেহে চীনা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে রাজাপাক্ষেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট হতে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ঘুষ দিয়েছিল। রাজাপাক্ষে সরকারের সঙ্গে চায়না হারবার ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে কলম্বোর একটি বন্দর শহর নির্মাণের জন্য চুক্তি করে যেটা বর্তমান সরকার কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে। তারা কাজ পেতে রাজাপাক্ষেকে বিভিন্ন সময়ে ১.১ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক মূদ্রা পাচারে চীনা সম্পৃক্ততা বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বে বেআইনী মূলধন প্রবাহে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইন্টারন্যাশনাল ন্যারকোটিকস কনট্রোল স্ট্রাটেজি (আইএনসিআর) এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচার নজরদারি করে থাকে। এছাড়াও ১৩ জুলাই ২০১৫, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে চীণা অর্থনীতি বিশ্লেষক স্ট্যানলি লুবম্যানের লেখা প্রতিবেদনে চীনকে শুধু অবৈধ অর্থের স্থানান্তরের একটি প্রধান উৎস হিসেবে বর্ননা করা হয়নি বরং দেশটির বিরুদ্ধে অন্যদেশের সাথে আন্তঃসীমান্ত মুদ্রা পাচার সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করতে ব্যর্থতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

আইএনসিআর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীনা কর্তৃপক্ষ ‘অবৈধ অর্থায়ন কার্যক্রম, প্রতিবেশী মানি লন্ডারিং, ব্যাংকিং জালিয়াতি, সিকিউরিটিজ এবং পরিবহন পরিষেবাগুলির মাধ্যমে দুর্নীতি সহ মানি লন্ডারিংয়ের নতুন নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করে আসছে বলে সনাক্ত করা হয়েছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘উন্নত উপকূলীয় দেশগুলোতে অনুন্নত দেশ ও অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের বিষয়টি চীনা কর্তৃপক্ষের নজরেও আছে তবুও এই অবৈধ অর্থ স্থানান্তর বেড়েই চলেছে।

এই পটভূমির কিছু সা¤প্রতিক উদ্বেগজনক উদাহরণও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে ইতালির প্রসিকিউটররা ইতালি একটি ব্যাংকের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ইউরো অবৈধ লেনদেনের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। তারা ব্যাংক অব চায়নার মিলান শাখার চার কর্মচারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইতালিতে একটি কোম্পানী খুলে তার মাধ্যমে চার বছর ধরে চীনে কোটি কোটি ইউরো পাচার করেছে। প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য মতে ইতালির ফ্লোরেন্সে ‘মানি টু মানি’ নামে একটি কোম্পানি খুলে সেই কোম্পানি থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে চীনে পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে “প্রায় অর্ধেক” ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে সরানো হয়েছিল। প্রসিকিউটররা আবিষ্কার করেন যে “মানি টু মানি,” ইটালিতে নিবন্ধিত চীনা অভিবাসীদের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যারা অপরাধমূলক কর্মকাÐের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করছে।

তবে চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, চীনের গোপনীয়তা আইন মেনেই তারা আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।” ব্যাংক অব চায়না কর্তৃপক্ষ বলে, ‘মানি টু মানি’ কোম্পানিটি অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত এমন কোন তথ্য তাদের কাছে নেই। ফ্লোরেন্সের চীনা দূতাবাস এবং চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নেই জানিয়েছে। ইতালীয় তদন্তকারীরা উল্লেখ করেন, ‘মানি টু মানি’ চীনের ওয়েনঝোতে অবস্থিত একটি বৃহত্তম বিনিয়োগকারী কোম্পানি যেটি চীনের উদ্যোক্তাদের দ্বারা পরিচালিত।

তথ্যসূত্র:

https://www.stabroeknews.com/HYPERLINK “https://www.stabroeknews.com/2012/news/stories/06/04/chinese-company-in-timehri-airport-contract-debarred-by-world-bank-under-fraud-policy-%E2%80%93jamaica-contractor-general/”2012/HYPERLINK “https://www.stabroeknews.com/2012/news/stories/06/04/chinese-company-in-timehri-airport-contract-debarred-by-world-bank-under-fraud-policy-%E2%80%93jamaica-contractor-general/”news/stories/HYPERLINK “https://www.stabroeknews.com/2012/news/stories/06/04/chinese-company-in-timehri-airport-contract-debarred-by-world-bank-under-fraud-policy-%E2%80%93jamaica-contractor-general/”06/04/HYPERLINK “https://www.stabroeknews.com/2012/news/stories/06/04/chinese-company-in-timehri-airport-contract-debarred-by-world-bank-under-fraud-policy-%E2%80%93jamaica-contractor-general/”chinese-company-in-timehri-airport-contract-debarred-by-world-bank-under-fraud-policy-%EHYPERLINK “https://www.stabroeknews.com/2012/news/stories/06/04/chinese-company-in-timehri-airport-contract-debarred-by-world-bank-under-fraud-policy-%E2%80%93jamaica-contractor-general/”2%80%93HYPERLINK “https://www.stabroeknews.com/2012/news/stories/06/04/chinese-company-in-timehri-airport-contract-debarred-by-world-bank-under-fraud-policy-%E2%80%93jamaica-contractor-general/”jamaica-contractor-general/

http://demerarawaves.com/HYPERLINK “http://demerarawaves.com/2016/10/04/govt-engineers-lost-confidence-in-chinese-company-to-complete-cheddi-jagan-airport-expansion-on-time/”2016/10/04/HYPERLINK “http://demerarawaves.com/2016/10/04/govt-engineers-lost-confidence-in-chinese-company-to-complete-cheddi-jagan-airport-expansion-on-time/”govt-engineers-lost-confidence-in-chinese-company-to-complete-cheddi-jagan-airport-expansion-on-time/

https://gbtimes.com/chinese-firm-debarred-world-bank-wins-major-w-africa-contract

http://www.srilankaguardian.org/HYPERLINK “http://www.srilankaguardian.org/2014/02/world-bank-banned-china-harbour.html”2014/02/HYPERLINK “http://www.srilankaguardian.org/2014/02/world-bank-banned-china-harbour.html”world-bank-banned-china-harbour.html

https://www.theindependent.co.zw/HYPERLINK “https://www.theindependent.co.zw/2016/06/17/dodgy-chinese-firm-us2bn-project/”2016/06/17/HYPERLINK “https://www.theindependent.co.zw/2016/06/17/dodgy-chinese-firm-us2bn-project/”dodgy-chinese-firm-usHYPERLINK “https://www.theindependent.co.zw/2016/06/17/dodgy-chinese-firm-us2bn-project/”2HYPERLINK “https://www.theindependent.co.zw/2016/06/17/dodgy-chinese-firm-us2bn-project/”bn-project/

http://www.thehindu.com/news/international/khaleda-zias-son-sentenced-over-bribes/articleHYPERLINK “http://www.thehindu.com/news/international/khaleda-zias-son-sentenced-over-bribes/article2129181.ece”2129181.HYPERLINK “http://www.thehindu.com/news/international/khaleda-zias-son-sentenced-over-bribes/article2129181.ece”ece

https://pngexposed.wordpress.com/tag/china-harbour-engineering/

http://www.nab.gov.pk/PRESS/NEW.ASP?HYPERLINK “http://www.nab.gov.pk/PRESS/NEW.ASP?1090″1090

https://www.theindependent.co.zw/HYPERLINK “https://www.theindependent.co.zw/2017/11/03/corrupt-chinese-firm-booted/”2017/11/03/HYPERLINK “https://www.theindependent.co.zw/2017/11/03/corrupt-chinese-firm-booted/”corrupt-chinese-firm-booted/

https://www.reuters.com/article/sri-lanka-rajapaksa/rajapaksa-comeback-bid-checked-by-sri-lanka-bribery-probe-idUSLHYPERLINK “https://www.reuters.com/article/sri-lanka-rajapaksa/rajapaksa-comeback-bid-checked-by-sri-lanka-bribery-probe-idUSL3N1043EF20150724″3HYPERLINK “https://www.reuters.com/article/sri-lanka-rajapaksa/rajapaksa-comeback-bid-checked-by-sri-lanka-bribery-probe-idUSL3N1043EF20150724″NHYPERLINK “https://www.reuters.com/article/sri-lanka-rajapaksa/rajapaksa-comeback-bid-checked-by-sri-lanka-bribery-probe-idUSL3N1043EF20150724″1043HYPERLINK “https://www.reuters.com/article/sri-lanka-rajapaksa/rajapaksa-comeback-bid-checked-by-sri-lanka-bribery-probe-idUSL3N1043EF20150724″EFHYPERLINK “https://www.reuters.com/article/sri-lanka-rajapaksa/rajapaksa-comeback-bid-checked-by-sri-lanka-bribery-probe-idUSL3N1043EF20150724″20150724

http://www.chec.bj.cn/tabid/861/Default.aspx

http://kpt.gov.pk/pages/default.aspx?id=141

Pakistan: CHEC Set to Run Gwadar Port

China Harbour denies history of corruption … ‘Direct questions to your govt’

http://cpec.gov.pk/

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত