প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগ বারবার বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছে
কোনো ষড়যন্ত্রই কার্যকরী হবে না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ বারবার বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু পারেনি।খালেদা জিয়ার নেত্বতে বিএনপি টিকে আছে, টিকে থাকবে। কোনো ষড়যন্ত্রই কার্যকরী হবে না।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একদিনে জয়ী হওয়া যায় না। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকবো। এখানে হতাশার কোনো সুযোগ নেই, সূর্য উঠবেই।

সোমবার(৩০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন ভাষানী মিলনায়তনে বিএনপি মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, এই লড়াই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে। এই সরকার একটি দানবে পরিণত হয়েছে। দানবীয় সরকার ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ফ্যাসিবাদের পতন ছাড়া বিকল্প নেই। এই দানবকে সরাতে হবে।

একনায়ক দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে যখন তারা দেখলো জনগণ তাদের সঙ্গে নাই। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। তাই তারা সংবিধানে সংশোধনী এনে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। আমরা আন্দোলন করেছিলেম সবসময় তো বিজয় অর্জন করা যায় না। সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করেছে।

ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলছি যে, মাঠ সমান করো, সংসদ ভেঙ্গে দাও, মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করো দেখবা জনগণ গণেশ উল্টিয়ে দেবে। জনগণ যাদের সঙ্গে থাকে তাদের কোনো ভয় নেই। জনগনের কাছেই আমাদের যেতে হবে। তাদের আন্দোলনে আনতে হবে। তারা রাজপথে নামলে আন্দোলন সফল হবে। তাই তাদের কাছে যেতে হবে তাদের বুঝাতে হবে।

মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের একটা রাজনীতি আছে, তা হলো, বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে সরাতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা ভেবেছে, খালেদাকে দূরে রাখতে পারলে তাদের মাঠ পরিস্কার। তাই তারা একটা মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে চায়। এখনো মামলায় আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক বাকি আছে, আর্গুমেন্ট বাকি থাকা সত্বেও তড়িঘড়ি করে মামলার রায়ের দিন দেয়া হয়েছে। এসব করে খালেদাকে কোনো মতেই পরাজিত করা যাবে না।

তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা বৃদ্ধ হয়ে গেছি। আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম এবং আছি। আপনারা তরুণ এখন সময় আপনাদের। আপনাদের জনগনের কাছে যেতে হবে। আমরা জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছি।

এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি এমনি একটি সাজানো মামলার রায়। যারা মামলা পরিচালনা করছেন যদি সঠিক রায় হয় তাহলে নেত্রী খালাস পাবেন আর যদি ভিন্ন কিছু হয় তা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। ‘একই চাকু ডাক্তারের কাছে থাকলে অপারেশন হয়, আর কসাইয়ের কাছে থাকলে জবাই হয়’।

চাকু এখন শেখ হাসিনার হাতে জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো কিছু হবে না, খারাপ কিছুই হবে। আপনারা আপনাদের মামলা তুলে নিয়ে আমাদের মামলা পরিচালনা করছেন। কিন্তু আমরা বলতে চায় মামলা কে মামলার মত করে চলতে দিন। এই সাজানো মামলায় যদি সাজা দেয়া হয় তাহলে এই দেশের জনগনের তা বরদাস্ত করবে না।

সারা দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আছে জানিয়ে সসোহেল বলেন, আমরা আগামী দিনে এই ধারণা ইতিবাচক ধারায় আনতে চায়। আগামী দিনে যেন দক্ষিণ নেতাকর্মীদের হাতে চুরি পরতে না হয়। আগামীকাল খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণের সকল নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালেচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির যদি আন্দোলনের সক্ষমতা না থাকে তাহলে বিএনপিকে ঠেকানোর জন্য হাজার হাজার পুলিশ বাহিনী কেন নিয়োগ করা হয়। ওবায়দুল কাদের, আপনার নিজের দলকে সামলান। আওয়ামী লীগে এখন গুটিকয়েক সন্ত্রাসী ছাড়া কোনো নেতাকর্মী নেই। বিএনপির চিন্তা বিএনপি করবে, আপনার এতো মাথা ব্যাথা কেনো।

ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত