প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আদিবাসী নাগরিকত্বের বিষয়ে সংবিধানে শুভংকরের ফাঁকি আছে : ড. মেসবাহ কামাল

ফারমিনা তাসলিম: আদিবাসী বিষয়ক সংশোধনী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বিবিসি বাংলাকে বলছেন, আদিবাসী নাগরিকের সমতার বিষয়ে সংবিধানে শুভংকরের ফাঁকি আছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সমনাগরিকত্বের ধারণা নিয়ে সোমবার ঢাকায় একটি গোল বৈঠক হচ্ছে । বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওগুলোর সমিতি এডাব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকত্বের ধারাতে সব সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীকে যেভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা কতটা যথাযথ সেটিরই একটি বিশ্লেষণ করা হবে এই গোলটেবিলে।

সমনাগরিকত্ব বলে তারা কী বুঝাতে চায়ছেন ?

এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, সমনাগরিকত্ব বলতে যে সকল নাগরিকের সমঅধিকার থাকবে সেই কথাটা বলা। নাগরিক হিসেবে তো আমরা সকলে সমান। তাতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অন্য যেকোন অবস্থান ভেদে যেন নাগরিক অধিকারের মধ্যে কোন বৈষম্য তৈরি না হয়। সবাই যেন সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। রাষ্ট্রের প্রতি সমভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং রাষ্ট্র যেন সবার প্রতি সমান চোখে দেখে, সেটাই নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকত্বের কথা বলা হয়েছে তাতে কি সব নাগরিকের সমতার ব্যাপারটি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে মনে করছেন ?

জবাবে অধ্যাপক ড. কামাল বলেন, সেখানে তো শুভংকরের ফাঁকি আছে। তাই আমাদের এ অবস্থা। আমাদের সংবিধানে দেখা যায়, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পরে যেটা সংবিধানের ৬ ধারায়। সেখানে বলা হচ্ছে,এই দেশের জনগণ জাতিতে বাঙালী এবং নাগরিকত্ব বাংলাদেশি’। নাগরিকত্ব বাংলাদেশি এটা ঠিক আছে। কিন্তু জাতিতে বাঙালীতে সকলে বাঙালী নয়। অধিকাংশই বাঙালী কিন্তু বাঙালী ছাড়া এদেশে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা অনেক আদিবাসী জাতি বাস করে। তারা এ সংবিধানে অনুপস্থিত হয়ে গেছে।

এখন কি ধরনের পরিবর্তন চাইছেন ?

জবাবে অধ্যাপক ড. কামাল বলেন, এদেশের অধিকাংশ লোক বাঙালী। কিন্তু এদেশে অন্যান্য জাতির লোক বাস করে। সংবিধানের শেষে একটা যদি তফসিল যুক্ত করে। এখানে অন্য কোন কোন জাতি বাস করে? তার যদি একটা তালিকা যুক্ত করে দেওয়া হয়। তাহলে তো সবাই স্বীকৃতি পায়। কিন্তু সংবিধানে আরো অনেকগুলো ত্রুটিপূর্ণ জায়গা আছে। যেমন ধরুন সংবিধানের ২৩এর ক ধারায় উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তা ইত্যাদি ইত্যাদি ৪টি শব্দ ব্যবহার করে বাঙালী ভিন্ন অন্য জাতিস্বত্তা বলা হয়েছে। কিন্তু এ সমস্ত অভিনয়গুলো তো অসম্মানজনক বা অভদ্রতাপূর্ণ।

আপনি নিজেই আদিবাসী বিষয়ে সংসদীয় কমিটির একজন টেকনোক্রেট সদস্য। এ নিয়ে কথা হওয়াটা কেন প্রয়োজনীয় ?

জবাবে ড. কামাল বলেন, প্রয়োজনীয় এজন্য যে স্বাধীন বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার ভোগ করবে। এটাই তো সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। এরকম একটা আদিবাসি বিষয়ক সংসদীয় পদের প্রয়োজন কেন হবে? প্রয়োজন হলো কেননা, আমাদের সংবিধান এবং আইনের মধ্যে সব পার্থক্য রয়ে গেছে। এগুলো সংসদীয় হওয়া দরকার।

সমনাগরিকত্বের চেতনায় কোন পরিবর্তন আনতে চাইলে সে প্রক্রিয়াটি কিভাবে শুরু হতে পারে ?

জবাবে অধ্যাপক ড. কামাল বলেন, কতগুলো সহজ প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে কিন্তু এটা শুরু। যেমন ধরুন ১৯৫০ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইন আছে, জমিদারি উচ্ছেদ প্রজাস্বত্ত হয়নি। সেখানে ৩০টা জাতিস্বত্তার নাম দেওয়া আছে। যাদের ব্যাপারে রাষ্ট্র বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভূমি হস্তান্তরের ব্যাপারে, ভূমি রক্ষার প্রয়োজনে একটা বিশেষ বিধান আছে। সেখানে সে তালিকাটা অসম্ভব। এটাকে বাংলাদেশে আপডেট করা দরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার। আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয়র পক্ষ থেকে আদিবাসী অধিকার আইনের খসড়া দেওয়া হয়েছে। সেটা এখনো সংসদে আলোচিত হয়নি এবং সেটাকে সংসদে আলোচনা এবং আইন হিসেবে প্রণয়ন করা দরকার। সংবিধানের মধ্যে যে ত্রুটিগুলো আছে, সেগুলো সংশোধনী করা দরকার। তাদের ভূমি মালিকানাটা যৌথ সামাজিক মালিকানায় কোন স্বীকৃতি নাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত