প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সিলেট

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে আসছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) তার নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে পুরো নগরীতে এখন উৎসবের আমেজ। ছোট-বড় তোরণ আর ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে জনসভাস্থল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের আশপাশের এলাকাসহ পুরো নগরী। দলের নেতাকর্মীদের আশা, জনসমাগমের দিক দিয়ে সিলেটের জনসভা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির সৃষ্টি করবে। মঙ্গলবার সিলেট থাকবে নৌকার সমর্থকদের দখলে।

সভার মাঠকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীরা বিরামহীন মিছিল-মিটিংসহ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিভাগীয় শহরটিতে চলছে তাদের জোর প্রচারণা।

তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত সিলেটের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনসভায় যোগ দিতে সিলেটের বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসবেন। নৌকায় ভোট চাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা তাদের নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনার সফরকে ঘিরে পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সিলেটবাসী প্রস্তুত। মর্যাদাপূর্ণ এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতির সিলেট সফর আগামী জাতীয় ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিলেটের জনসভায় নৌকায় ভোট চাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন তিনি। এমনকি অতীতের মতো সিলেটের সব আসন আওয়ামী লীগকে উপহার দেওয়ার জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানাবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।’

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহপরাণ (রহ.) ও সিলেটের প্রথম মুসলমান গাজী বুরহান উদ্দিনের (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সার্কিট হাউজে অবস্থান করবেন তিনি। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে দেখা যাবে তাকে। তার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) গত কয়েকদিন ধরে এসব স্থান পরিদর্শন করেছে।

জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পাশাপাশি সিলেটের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন কোনও ঘোষণা আসবে, সেই প্রত্যাশা সাধারণের মধ্যে।

মাজার জিয়ারত ও জনসভার মধ্য দিয়ে সিলেট থেকেই শুরু হয়ে থাকে সব দলের নির্বাচনি প্রচারণা। সরকার গঠনের বিষয়টি মাথায় রেখে সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ আসনে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় একাদশ সংসদ নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে এবারও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সিলেট থেকেই প্রচারণা শুরু করছে।

প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই পূণ্যভূমি সিলেট থেকে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণার কাজ শুরু করেন— এমনটাই জানালেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেটের জনসভার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনকেন্দ্রিক বলেও জানান তিনি।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাষ্য, ‘নেত্রীর এই সফরকে ঘিরে সিলেটে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে দলের জয় সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীকে সব ভেদাভেদ ভুলে দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ফের আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট থেকে নির্বাচিত হন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ওই নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনও দলের প্রার্থী ছিল না। তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সাইফুর রহমান হেরে গিয়েছিলেন মুহিতের কাছে। নবম সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৭২ হাজার ৮১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ২১৩ ভোট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত