প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাবিতে শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

জাবি প্রতিনিধি: দুই সহকর্মী শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা। তবে পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় বিভাগ ও একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহেদুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘লাঞ্ছিত দুই সহকর্মীর প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন স্বরূপ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গেও দেখা করেছিলাম। লাঞ্ছনায় জড়িতদের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি আমরা।’

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার রাস্তায় গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহ্রীন ইসলাম খানের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের দ্বারা ‘লাঞ্ছিত’ হয়েছেন উল্লেখ করে সন্ধ্যায় প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগপত্র দেন। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে সায়কাও ওই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন। এতে আরমানুল ইসলাম খান (আইন ও বিচার বিভাগ, ৪৩ তম আবর্তন) এবং সানাউল হকের (অর্থনীতি বিভাগ, ৪০ তম) নাম উল্লেখ ছাড়াও আরও অনেকের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার অভিযোগ তোলা হয়। পরে ওইদিন রাতেই প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন আরমান। সেখানে তিনি নাহ্রীন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে পাল্টা শারীরিক লাঞ্ছনা ও হুমকির অভিযোগ আনেন।

২৬ তারিখের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বটতলায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ঠেকানো ও পায়ে হাঁটা নির্বিঘ্ন করতে ওইদিন সকাল থেকেই আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের সামনে চার জন আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বটতলার রাস্তায় সংস্কার কাজ চলায় সেটি সংকুচিত হয়ে এসেছিল।

তাই তারা কাউকে গাড়ি নিয়ে বটতলায় ঢুকতে দিচ্ছিলেন না। দুপুর সোয়া ১ টার দিকে শিক্ষক পরিচয়ে আনসার সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে গাড়ি নিয়ে বটতলায় প্রবেশ করেন নাহ্রীন ইসলাম খান। পরে আরমান নামে ওই শিক্ষার্থী তাকে গাড়ি সরাতে বললে একপর্যায়ে তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে গাড়ি সরানোর পক্ষে যুক্তি দেখালে তাদের কয়েকজনের সঙ্গে নাহ্রীন ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়।
নাহ্রীন ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা রাস্তার একপাশে গাড়িটি পার্ক করে দুজন শিক্ষার্থীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আশেপাশে আরও গাড়ি ছিল।

চলাচলে কোনও সমস্যা হচ্ছিল না। দূর থেকে দেখতে পাই আরমান নামে এক শিক্ষার্থী ড্রাইভারের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বলছে। তখন আমি এগিয়ে গিয়ে বলি, গাড়িটি ১০ মিনিটের জন্য রাখা হয়েছে। শিক্ষক পরিচয় দিলেও আরমান আমার সঙ্গে বাজে আচরণ করে। তার শারীরিক ভাষা ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ।’

এ বিষয়ে আরমানুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষক আনসার সদস্যদের নিষেধ অমান্য করে বটতলায় অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করেন। তখন আমিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে গাড়িটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করি। তিনি অনুরোধ না শুনে উল্টো আমাদের পরিচয় জানতে চান। আমরা পরিচয় দিয়ে ফের গাড়ি সরানোর অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করেন।’

সানাউল হক বলেন, ‘লাঞ্ছনার কোনও ঘটনা ঘটেনি। ওইদিন একজন শিক্ষকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কিন্তু দুই জন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতেই বোঝা যায় অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, ‘বটতলায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এর প্রবেশমুখে চার জন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। গাড়ি নিয়ে বটতলায় প্রবেশ না করতে তারা ওই শিক্ষককে অনুরোধ করেছিলেন। তিনি অনুরোধ উপেক্ষা করে গাড়ি নিয়ে বটতলায় প্রবেশ করেন। পরে হট্টগোলের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেসময় গাড়িটি রাস্তায় পার্ক করা ছিল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত