প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৯৯৯-এ সমাধান পেলেন সিএনজি অটোরিকশা চালক সাগর

রিকু আমির : রাস্তায় একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মী দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সাগর মিয়া (২৭), এরপর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহযোগিতা পান সাগর। অভিযুক্তকে সাগরের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ান পুলিশ।

রোববার দুপুরে পান্থপথ স্কয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন সেলিম সেন্টার আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি সমাধান করেন ওই এলাকায় দায়িত্বরত শেরেবাংলা নগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মামুন মিয়া।

সাগর এ প্রতিবেদককে জানান, দুপুরে তিনি একজন যাত্রীকে নামান সেলিম সেন্টারের সামনে। এসময় একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মী আলম (ছদ্মনাম) সাগরকে দ্রুত সরে যেতে বলেন। চলে যাচ্ছি বলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে ওই কর্মী সাগরের সিএনজি অটোরিকশার পেছনে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এসময় সাগর প্রতিবাদ জানাতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ওই সিকিউরিটি কর্মী হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সাগরের মাথায় আঘাত করে এবং লাঠি দিয়েই গলায় চেপে ধরে। এতে সাগরের মাথার ডান পাশ ফুলে ও গলার ডান পাশ লালচে বর্ণ ধারণ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেলিম সেন্টারের সামনে শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মীরা কাজ করছিলেন। এ কাজ নিয়মিতই করা হয় বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের শিকার হয়েই সাগর ৯৯৯-এ কল দেন। এরপর আসেন সাব-ইন্সপেক্টর মামুন মিয়া। ততক্ষণে কর্মী আলম লাপাত্তা। তার সহকর্মীরাও তাকে কল দিয়ে পাচ্ছিলেন না। অনেক্ষণ পরে পুলিশের কৌশলে আসতে বাধ্য হন। পুলিশ উভয়ের বক্তব্য শোনেন। আলমের দোষ গুরুতর বিবেচনায় পুলিশের নির্দেশে তিনি সাগরের পা ধরে ক্ষমা চান। পরে উভয়ে কোলাকুলি করে স্থান ত্যাগ করেন।

পুলিশ আলমকে বলেন, গায়ে হাত তোলার অধিকার তোমার নেই। তুমি আঘাত করে তার মাথা এবং গলায় জখম করেছ। এটা মারাত্মক অন্যায়। এভাবে আঘাত করার অনুমতি পুলিশেরও নেই। একইসঙ্গে সাগরকেও বলেন, দোষ তোমারও আছে। নয়তো এমন অবস্থা হতো না।

সাব-ইন্সপেক্টর মামুন মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, দুজনেই নিম্ন আয়ের মানুষ। কারও রুটিরুজি উপার্জনে যেন কোনো সমস্যা বা বিঘ্ন না হয় সেজন্য এভাবে সমাধান করেছি।

সাগর এ প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশের সহযোগিতা এত দ্রুত পাব, ভাবতেও পারিনি। সেবা পেয়ে আমি অনেক খুশি।

সর্বাধিক পঠিত