প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদার গন্তব্য কোথায়?

মামুন : এ শিরোনাম অতীতে বহুবারই ছাপা হয়েছে। তবে এবারের মতো তাৎপর্য নিয়ে কখনোই নয়। কী হতে চলছে ৮ই ফেব্রুয়ারি। বকশীবাজারের আদালত থেকে কোন দিকে যাবেন খালেদা জিয়া। এটা অবশ্য তার ওপর নির্ভর করছে না। এবার শীতের তীব্রতা বেশ। দেশের রাজনীতিতেও দীর্ঘকালীন শীতকাল চলছে।

পরিচিত কোনো দৃশ্যপটই নেই। মিলনায়তন বন্দি রাজনীতি। শীতের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত উত্তাপ তৈরি হয়েছে খালেদা জিয়ার মামলাকে ঘিরে। দুই শিবিরই এখন কথার লড়াইয়ে। কৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত বেগম জিয়ার ক্যাম্প। এরই মধ্যে তিনি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে। মনসংযোগের সঙ্গে শুনেছেন সবার কথা। নিজে খুব বেশি কিছু বলেননি।

দুটি বিষয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা বলেছেন দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা। তারা মনে করেন, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ফের পুরোমাত্রায় ধরপাকড় শুরু হয়ে যেতে পারে। রায় নিয়েও ইতিবাচক কোনো ভবিষ্যদ্বাণী তারা করেননি। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বিএনপি নেত্রী। জোট, দলের নির্বাহী কমিটি এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কথা শুনবেন তিনি। তারপরই নিবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দলের হাইকমান্ড অবশ্য দ্বিধায়। এখনই পূর্ণাঙ্গমাত্রার আন্দোলন না আরো অপেক্ষা- সে ব্যাপারে তারা ধীর কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না। তৃণমূল অবশ্য খালেদা জিয়ার বিপক্ষে রায় গেলে হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। ঢাকার বাইরের নেতাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাদের মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। বিএনপির রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক বলছেন, তাহলে কী এবারও পুরনো দৃশ্যই মঞ্চায়ন হবে। ঢাকার বাইরে তীব্র আন্দোলন, ঢাকায় নেতারা থাকবেন অবকাশে।

৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার গন্তব্য কোন দিকে হবে। নানা আলোচনা। নানা মত। গুজবের মেশিন ফের সক্রিয়। তিন/চার রকম বিকল্পের আলোচনা রয়েছে। খালেদা জিয়া খালাস পেলে বিকল্পের আলোচনা নেই। তিনি সোজা গুলশানে যেতে পারবেন। অন্য কোথাও যাওয়াও তারই মর্জি। রায় বিপক্ষে গেলে গন্তব্য কোন দিকে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় সাধারণত কারও দণ্ড হলে কারাগারে না গিয়ে আপিলের সুযোগ নেই। তবে একজন আইনজ্ঞ গতকাল এ রিপোর্টারকে বলছিলেন, রায়ে আদালত চাইলে সে সুযোগ রাখতে পারে। এক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কারাগারে না গিয়েও আপিলের সুযোগ পেতে পারেন। খালেদা জিয়ার মামলা ঘিরে সরকারি পলিসি অবশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। রাজনীতি কি এখনই পয়েন্ট অব নো রিটার্নে চলে যাবে, না আরো কিছু সময় নিবে তা এই মুহূর্তে হলফ করে বলা যায় না। তবে এ নিয়ে শোনা যায়- শাসকমহলে দুই ধরনের মতামত রয়েছে।

খালেদা জিয়ার গন্তব্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিএনপির গন্তব্যের প্রশ্নও। তিনি যদি গ্রেপ্তার হন তবে বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন কে সে প্রশ্নও জোরদার হচ্ছে। অতীতের মতো দল ভাঙার চেষ্টা হতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। যদিও এ ধরনের প্রচেষ্টার সাফল্যের নজির বাংলাদেশে কম। রাজনীতি এখানে শেষ পর্যন্ত পরিবার নির্ভর। খালেদা জিয়া যদি নেতৃত্ব দিতে না পারেন, তবে কে থাকবেন বিএনপির নেতৃত্বে। চলমান বাস্তবতায় তারেক রহমানের দেশে ফিরে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান কি নেতৃত্বে আসবেন। বিএনপির কাছের বলে পরিচিত একদল বুদ্ধিজীবী এর আগে বেগম জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ডা. জোবায়দাকে রাজনীতিতে আনতে। সে সময় জিয়া পরিবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

কী হবে শেষ পর্যন্ত? হঠাৎই রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা। এ পরিস্থিতি সহসাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে- এমন নয়। তবে আগামী দিনের রাজনীতি কেমন হবে তা খোলাসা হতে আর বেশি দেরি নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত