প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এখন আর লঙ্কায় গিয়ে রাবণ হতে হয় না

মনজুরুল আলম পান্না : ‘তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন’? কথাটি আমরা কেউ মনে রাখতে পারছি ? সব জায়গাতেই সহিংসতার প্রতিযোগিতা। ব্যক্তি পর্যায়ে, রাজনীতি কিংবা শিক্ষাঙ্গনে, সব স্তরেই সহনশীলতা পরাভূত।

ছাত্রলীগের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে বিব্রত সরকার, অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, সমালোচনা সবার মুখে মুখে। যদিও এতে তাদের কিছু যায় আসে না, লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না তাদের বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডের। কিন্তু অন্যান্য সংগঠনগুলো কেনো তাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে? এ কথা সত্য যে নতুন করে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রকম প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে হুমকির শিকার প্রাত দুই লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়েই ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঘটে ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনা। কিন্তু অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের অনেক নজিরই আমাদের সামনে রয়েছে। তবু কেনো সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো সহিংস হয়ে উঠল। কেন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করতে গিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের তিন তিনটি ফটক ভাঙতে হলো হাতুড়ি-শাবল চালিয়ে? সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর আচরণের সঙ্গে তাদেরকে তাহলে আলাদা করা হবে কেমন করে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে অনেকেই বিনয়ী, সজ্জন হিসেবে জানেন। তাকে যখন অবরুদ্ধ করা হচ্ছিল অন্যদের মতো তিনিও সেই নিন্দিত সনাতনী পন্থা বেছে নিলেন, ডাকলেন ছাত্রলীগকে। হামলার শিকার হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া আহত শিক্ষার্থীদের কোনো খোঁজ নেননি উপাচার্য কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যে যায় লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ। কথা প্রসঙ্গে সেদিন এক বন্ধু বলছিলেন, ‘আসলে এখন আর লঙ্কায় গিয়ে রাবণ হতে হয় না। রাবণদেরকে চিনে চিনেই লঙ্কায় পাঠানো হয়’।

খুব বেশি অদ্ভুত লেগেছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কথায়, এক সময় যিনি নিজেও ছিলেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জনাব ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘ভিসি মহোদয়ের ডাকেই ছাত্রলীগ সেখানে গিয়েছে’। ডাকলেই যেতে হবে কেন? ওটা নিশ্চয় সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের কাজ নয়, যেমনটা সমর্থনযোগ্য নয় ওইদিন উপাচার্যের কার্যালয়ের কলাপস্যাবল গেটগুলো বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর হাতুড়ি-লোহার রড দিয়ে ভাঙার ঘটনা। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ভুলে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিসিকে উদ্ধার শুধু নয়, যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সবার আগে রয়েছে প্রশাসন। ছাত্রলীগকে কেন সব জায়গাতে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে? ছাত্রলীগ কি তবে প্রশাসনেরই নামান্তর?

লেখক : সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত