প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাইবার অপরাধীরা আগ্রাসী চেহারায়

ডেস্ক রিপোর্ট  : সারা বিশ্বে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী বাড়ার সঙ্গে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধ। পর্নোগ্রাফি, ফেসবুক হ্যাকিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা তুলে নেয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার প্রভৃতি অপরাধ আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।

তথ্য চুরির মাধ্যমে ঘটানো এসব অপরাধকে বলা হয় সাইবার অপরাধ। সাইবার অপরাধীরা এখন আগ্রাসী চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আজ রোববার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ডাটা প্রাইভেসি ডে বা তথ্য সুরক্ষা দিবস। প্রতি বছরের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিনটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হল- ‘গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তথ্য সুরক্ষা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা।’

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাফিজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাত কোটির বেশি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি, যা ২০২০ সাল নাগাদ পাঁচ কোটিতে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জীবনের বেশিরভাগ সময় আমরা ইন্টারনেট ও হাতে থাকা মোবাইল ফোনসেটসহ ডিভাইসগুলোর সঙ্গে ব্যয় করছি। এখনও খুব কম মানুষই জানে যে, অনলাইন সেবা থেকে অসংখ্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা শেয়ার করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপকমিশনার (ডিসি) আলীমুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সাইবার অপরাধ নিয়ে ডিএমপিতে একটি ইউনিট কাজ করা হচ্ছে। ডিএমপিতে মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ আসে। এছাড়া ডিএমপির ৪৯টি থানায় প্রতিনিয়ত এ সংক্রান্ত মামলা হচ্ছে। অথচ সাইবার ইউনিটের সদস্য সংখ্যা ৬৭ জন।

এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক ও এসআই পদমর্যাদার) ১৬ জন। তাদের তদারকির জন্য চারজন সহকারী কমিশনার (এসি), দুইজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এবং একজন ডিসি রয়েছেন। মাত্র ১৬ জন তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে সব অভিযোগ তদন্ত করা অসম্ভব। এসব অপরাধ দমনে বড় ইউনিট গড়ে তোলা জরুরি।

এছাড়া ইউনিটের লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো উচিত। সাইবার সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন জানায়, কঠোর আইনের অভাবে দেশি-বিদেশি অনেক কোম্পানি তাদের ইউজার ও ক্রেতাদের ব্যক্তিগত আচরণ পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাচ্ছে। ভোক্তাদের এসব তথ্য তারা লাভের জন্য বিক্রি করছে।

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যম সমন্বয়ক তানজিয়াহ খানম বলেন, অপরাধ ও সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেকে সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে চাইলে অবশ্যই তাকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে হবে।

এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এর জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৩ (খ) নম্বর অনুচ্ছেদে প্রাইভেসি রাইটস বা ব্যক্তির তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত। একই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারায় অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত