প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসিনা-জোকো উইদোদো বৈঠক, পাঁচ চুক্তি ও সমঝোতা সই

রাশিদ রিয়াজ : বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিষয়ক পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে। এর আগে সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসে পৌঁছান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টাইগার গেটে জোকো উইদোদোকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিমুল হলে একান্ত বৈঠকে বসেন এশিয়ার দুই নেতা। পরে দুই নেতার উপস্থিতিতে করবী হলে কয়েকটি চুক্তি সই হয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে দুই দিনের সফরে শনিবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশে এসেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। শনিবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তার সরকারি সফর শুরু করেন। গণভবনের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার সকালে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করেন।

এদিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ইন্দোনেশিয়ার সফররত প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই অনুরোধ করেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ রাখাইনে তাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো অতি দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

তিনি বলেছেন, আসিয়ানের একটা সরকার প্রধান বাংলাদেশ সফরে এসেছেন এবং উনি দেখতে গেছেন; এটা একটা হিউজ ইস্যু।
গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ বিবরণ আসছে প্রাণ হাতে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এর শান্তিপূর্ণ সমাধান অতি দ্রুত করা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা এই সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমর্থন চাইছি। ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘে এবং হিউম্যান রাইটস কমিশনে রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা আশা করি, এটা অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত