প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মহেশখালিতে আরো অনেক বিদ্যুৎ হাব নির্মাণ করা হবে’

ফারমিনা তাসলিম: কক্সবাজারে মহেশখালিতে মাতারবাড়িতে ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ হাব নির্মাণ করা হচ্ছে। কুল পাওয়ার জেনারেশন বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রকল্প কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাতকারে বলছে, এটা ছাড়াও মহেশখালিতে আরো অনেক বিদ্যুৎ হাব নির্মাণ হবে। বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

রোববার বাংলাদেশের কক্সবাজারের মহেশখালির মাতারবাড়িতে ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটো কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মকর্তারা বলছে, মহেশখালিতে আরো অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সবগুলো বাস্তবায়িত হলে সেখানে ১০ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে এবং মহেশখালি পরিণত হবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় হাব বা কেন্দ্রে।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, কুল পাওয়ার জেনারেশন বাংলাদেশ লিমিটেড এ জায়গায় ১৪’শ ১৪ একর একটা জায়গা নিয়েছে। আরেকটা প্লটে ১৪’শ একর নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, আরেকদিকে ১৩’শ একর জায়গা নিয়ে ফেলছি সিঙ্গাপুর সরকারের সঙ্গে হবে। মহেশখালির আরেক সাইডে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ড সাড়ে ৫ হাজার একর জায়গা নেওয়া হয়েছে। এখানে ৮টা পাওয়ার ইউনিট উৎপন্ন হবে। মোট মহেশখালি উপজেলা থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার টার্গেট সরকারের।

বিদ্যুৎ হাবের জন্য সমুদ্রের পাশে মহেশখালির মতো একটা জায়গা কেন নির্বাচন করা হয়েছে ?

জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে কয়লাখনি নাই তাই এটা সাগরের তীরে করা হচ্ছে। আমরা বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করব। ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, স্পেন, মোজাম্বিক যেখান থেকে কয়লা আনি না কেন, আমদানি করতে হবে। তাই আমরা কক্সবাজারের সাগরের ধারে এটা নির্বাচন করেছি।

এটা আমদানি করা কয়লার উপর নির্ভরশীল, যার ফলে সেখানে বন্দর সুবিধার বা নানা ধরনের সুবিধা প্রয়োজন হবে ?

জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এ প্রজেক্টের জন্য ইতিমধ্যে বন্দর বা জেটি আছে। চিটাগং পোটং আমাদের নিজস্ব জেটি। তাই তেমন কোন সমস্যা হবে না।

বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল একটা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। এরকম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য কি ঝুঁকি আছে ? সে ঝুঁকি কমানোর জন্য কি করবেন ?

জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এখানে ঝুঁকি নিয়ে অধ্যয়ন করা আছে। আমরা জানি এটা সাইক্লোনপূর্ণ এরিয়া। আমরা এখানে ১০ মিটার উচ্চ করে পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছি। এজন্য আমাকে অন্য জায়গাতে মাটি আনতে হচ্ছে না। যে চ্যানেলটা হচ্ছে সেটা ১৮ মিটার ড্রাফট হবে। এখানে ৩২ ফুট উচু হবে, অর্থাৎ ঝুঁকিমুক্ত হবে।

বিশাল বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিশাল অর্থের যোগান কে দিচ্ছে এবং কিভাবে দিচ্ছে ?

জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এ প্রজেক্টের অর্থায়ন বেশিরভাগই জাপান দিচ্ছে। ২’শ কোটি টাকার মধ্যে বেশিরভাগই জাপান দিচ্ছে। এটা তারা ঋণ সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে।

এই মেগাপ্রকল্পের কাজ শেষ করতে কতদিন লাগবে বা কবে নাগাদ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হবে ?

জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, দুইভাগে কাজটা শেষ হবে। প্রথমটা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, দ্বিতীয়টা ২০২৪ সালের জুন মাসে। অর্থাৎ মোট ৭ বছর লাগবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত