প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফাঁসতে পারেন বড় কর্তারাও!

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরাও চোরাচালানিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবৈধ পণ্য বহন এবং সরবরাহ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন অনেকে। অনৈতিক উপায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে গিয়ে চাকরি গেছে অনেকের, বহুজন গলদঘর্ম হচ্ছেন মামলার ঘানি টেনে। এরপরও চোরাচালান চক্রের টোপে পা দিচ্ছেন দেশের প্রধানতম বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী, এমনকী কর্মকর্তারাও!

গত বুধবার প্রায় ৫ কেজি স্বর্ণসহ শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নকর্মী মোস্তফা কামালকে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিমের কর্মকর্তারা গ্রেফতার করেন। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় গতকাল শনিবার মোস্তফাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। রিমান্ডের প্রথম দিনেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই আল আমিন। তিনি বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে জরুরি তথ্য দিয়েছেন। শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে গড়ে ওঠা চোরাচালান চক্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন এমন একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নামও জানিয়েছেন মোস্তফা। তার দাবি, স্বর্ণের বারসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী চোরাচালানে শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অনেকেই জড়িত। তার দেওয়া তথ্য সত্য হলে চোরাচালানের দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তবে এখনই মোস্তফা কামালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই পুলিশের। এসআই আল আমিন সমকালকে বলেন, কামালের দেওয়া প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগে নাম প্রকাশ করা হলে অনেকে গা ঢাকা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ঢাকা কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, গত বুধবার দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে প্রায় ৫ কেজি ওজনের ৪০টি স্বর্ণের বার ঢাকায় আনা হয়। ওই ফ্লাইটে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে ছিলেন মোস্তফা কামাল। চোরাচালানিদের কাছ থেকে ওই বারগুলো নিজের জুতার ভেতর নিয়ে তল্লাশি এড়িয়ে বিমানবন্দরের বাইরে পাচার করার চেষ্টা চালান তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটকের পর তল্লাশি চালিয়ে বারগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টম হাউসের এক সহকারী কাস্টমস কমিশনার (এসি) জানান, সম্প্রতি বিমানবন্দরে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে বিমান, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করে তাদের বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত