প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দরপত্র ছাড়াই অর্ধশতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট : পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রাজশাহীর শ্রীরামপুর এলাকার অফিসার্স কলোনির অর্ধশতাধিক গাছ কোনো দরপত্র ছাড়াই কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলোনির ভেতরে ঘুরে ৫৫টি গাছ কেটে নেওয়ার নমুনা দেখা গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, অফিসার্স কলোনির ভেতরের সংস্কারের জন্য মাত্র তিন-চারটি গাছ কাটা হয়েছে।

কলোনির গাছের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী নাজীব কায়সার বলেন, সংস্কারের জন্য তিন-চারটি গাছ কাটা হয়েছে। বাইরে থেকে অনেক বেশি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে- এ কথা শুনে তিনি বলেন, মানুষ তো বলার সময় ওই রকম বাড়িয়ে বলে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাটা গাছ ভেতরেই রয়েছে। দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

কলোনির ভেতরে দেখা যায়, একটি চারা কাঁঠালগাছ, আমগাছের কিছু ডাল, মরা পাতা ও একটি শিমুলগাছের গুঁড়ি পড়ে রয়েছে। শিমুলের গুঁড়িটা কেটে দু’ভাগ করা হচ্ছিল।

সেখানে ৫৫টি গাছ কেটে নেওয়ার নমুনা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কোনো গাছের গোড়া অবিকল রয়েছে। কোনোটির গোড়া মাটি খুঁড়ে তুলে ফেলা হয়েছে। তার পাশেই মোটা শিকড় রয়েছে। আবার কোনো গাছ কেটে নেওয়ার পরে গোড়ায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে বোঝা না যায় যে সেখান থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। কলোনির ভেতরে যেসব কর্মচারী রয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছগুলো গত ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কাটা হয়েছে।

এই গাছগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই মেহগনি। এ ছাড়া রয়েছে কয়েকটি নারিকেল, পেয়ারা ও আমগাছ। সাম্প্রতিক সময়ে কাটা এই গাছগুলো ছাড়া কলোনির ভেতরে আরও ১৮টি পুরনো গাছের গোড়া দেখা গেছে। কলোনির ভেতরে থেকে বের হওয়ার পর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাজীব কায়সারকে মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ ব্যাপারে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ‘কে কাটল তা বুঝতে পারছি না। হাঁটার পথ তৈরি করার জন্য ছোট আকারের তিন-চারটি গাছ কাটার কথা শুনেছি। তার পরও তদন্ত করে দেখার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।’ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার খায়রুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘রেলওয়ে গাছ কাটার জন্য তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে বলে তার মনে পড়ছে না। সরকারি গাছ কাটতে হলে অবশ্যই বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। সাধারণত উন্নয়নমূলক কোনো কর্মকাণ্ডের ব্যাপার না থাকালে বন বিভাগ থেকে তাজা গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয় না।’

সর্বাধিক পঠিত