প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় থাকছে না সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে, ১৯৭২ (আরপিও) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজ্ঞায় রাখা হচ্ছে না সেনাবাহিনীকে। ফলে জাতীয় সংসদসহ সর্বস্তরের নির্বাচনে এই বাহিনীকে মোতায়েনে বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকল না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি, সংলাপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের করা সুপারিশ উপেক্ষিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সংসদসহ সব পর্যায়ের নির্বাচনে সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বজায় রাখতে নির্বাচনে ভূমিকা থাকে বিশেষ এই বাহিনীর।

তবে, আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বিতর্কিত ইভিএম-ডিভিএম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকসূচক ভোটারের হার করা হচ্ছে নির্দিষ্ট। একই সঙ্গে আইসিটি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র অনলাইনে জমার বিধান সংযোজন হচ্ছে। আর সংস্কার কমিটির অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে- নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাচনী অপরাধের দায়ে প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলির সুযোগ রাখার বিধান যুক্ত করা, ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা অগ্রাধিকার দিতে মনোনয়নপত্র জমার আগ পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ রাখা, ভোট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আরপিওর সংজ্ঞায় তাদের জন্য শক্ত আইন যুক্ত এবং দুজন প্রার্থীর ভোটের ফল সমান হলে বিদ্যমান লটারির বদলে ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা।

আরপিওতে সেনাবাহিনী না রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে তাদেরকে আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ছিল সংলাপে অংশগ্রহণ করা অধিকাংশ প্রতিনিধির। আইন সংস্কার কমিটি এটিকে আমলে না নিলেও কমিশনের এখতিয়ার রয়েছে অবস্থান বিবেচনায় বিষয়টিকে গ্রহণের। কারণ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে এই বাহিনীকে নির্বাচনের মাঠে মোতায়েন করা হলে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে অনেকটা সহায়ক হয়। তিনি বলেন, আইন সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে পাঠানোর আগ পর্যন্ত এটি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে, সেজন্য সবাইকে অপেক্ষা করাই শ্রেয়।

তবে, আইন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আরপিওতে সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে কমিটি একমত। এ বিষয়ে মত পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ কম। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী না রাখা হলেও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ইভিএম, দুজন প্রার্থীর মধ্যে সমভোট হলে লটারির বদলে পুনঃনির্বাচন, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়ছে এবং অনলাইলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

জানা গেছে, কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে ১৭ তারিখের আইন সংস্কার কমিটির প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কথা ছিল। আর নির্ধারিত ছিল ডিসেম্বরের মধ্যে এটির সব কার্যক্রম শেষ করার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর প্রায় আড়াই মাসের মাথায় নির্বাচনী আইন সংস্কার কমিটি আজ তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। কমিটির প্রস্তাব কমিশন সভায় উত্থাপনের পর তা আইনের রূপ দিতে সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। কিন্তু কমিশন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ১ শতাংশের বিধান তুলে দিয়েছে। এখন এসব প্রার্থীর এক হাজারজন ভোটারের সমর্থন নিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে না যেয়ে আনলাইনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। কমিটির অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে নির্বাচনে অবৈধ টাকার প্রভাব ও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় সীমা নির্দিষ্ট রাখতে ব্যয় মনিটরিং কমিটি ও অডিটের নিমিত্তে আলাদা কমিটি গঠন, নির্বাচনে অভিযোগ দাখিল ও তা দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এ বিধান সংযোজন, প্রার্থীদের জামানত ফি বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা এবং তা অফেরতযোগ্য বিধান যুক্ত করা, প্রার্থীদের হলফনামায় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সার্টিফিকেটের পাশাপাশি মার্কশিট সংযোজনের বিধান সংযোজন, সংসদ নির্বাচনে বড় জেলায় দুজন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের ফলে জটিলতা তৈরি হয়, তাই এটা নিরসনে জেলার পাশাপাশি আসন শব্দটি যোগ করা এবং নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়ম রোধে নিজস্ব কর্মকর্তাদের স্থায়ী দায়িত্ব পালনের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ থাকছে আইন সংস্কার কমিটির। প্রতিদিনের সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত