প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ত্রাণের ঢেউটিন দরপত্রে অনিয়ম

ডেস্ক রিপোর্ট : সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন ক্রয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও নিন্ম দরদাতাকে ঘুষ ছাড়া কাজ দিচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। তারা দালালদের সঙ্গে ঘুষের মাধ্যমে মধ্যস্থতা না করার পর্যন্ত ত্রাণের ঢেউটিনের কাজ দেয়া হচ্ছে না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কেওয়াইসিআর কয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগে বলা হয়, দেশে বিভিন্ন দুর্যোগ. খরা ও বন্যাসহ নানা ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য দারিদ্র্য ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে সরকারিভাবে ঢেউটিন ক্রয় করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বরাদ্দ দিয়ে আসছে। এর আগে এ বরাদ্দ জেলায় জেলায় থাকলেও তা এখন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয়ভাবে। গত বছরের ৩ অক্টোবর ৭৫ কোটি টাকার ঢেউটিন পাঁচ লটে কেনার দরপত্র আহŸান করে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। ৯টি কোম্পানি দরপত্রের অংশ নেয়। সর্বনিন্ম দরদাতা হিসেবে চারটি কোম্পানির পাঁচটি গ্রæপ যোগ্যতা অর্জন করে। এর মধ্যে কেওয়াইসিআর কয়েল দুটি, সর্দার এন্টারপ্রাইজ একটি, সানজি এন্টারপ্রাইজ একটি এবং জেবি এন্টারপ্রাইজ একটির জন্য যোগ্য হয়। যোগ্যতা অর্জন এবং সব ধরনের তদন্তের প্রক্রিয়া শেষে টেন্ডার কমিটির সর্বশেষ বৈঠকের আগে চ‚ড়ান্ত কাজ দেয়াকে কেন্দ্র করে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য শুরু হয়।

এর অংশ হিসবে চ‚ড়ান্ত কাজ পেতে হলে কেওয়াইসিআর কয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে দালালচক্রের মূলহোতা আকাশ ভৌমিক মূল টাকার ১২ শতাংশ ঘুষ দাবি করে। দুই লট কাজের জন্য এই ঘুষের পরিমাণ হচ্ছে, তিন কোটি ২০ লাখ টাকা।

কেওয়াইসিআর কয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রয় প্রতিনিধি এত টাকা ঘুষ দেয়ার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করলে আকাশ জানিয়ে দেয় এই কাজ তারা পাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত দাবিকৃত ঘুষের টাকা না দেয়ায় গত ৯ জানুয়ারি টেন্ডার কমিটির বৈঠক করে কেওয়াইসিআর কয়েলকে কাজ দেয়া থেকে বিরত থাকে। এর পরের দিন ১০ জানুয়ারি পুনঃ দরপত্র আহŸান করে বিজ্ঞপ্তি দেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।

কেওয়াইসিআর কয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রয় প্রতিনিধি আজমীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রীর কথা বলে দালাল আকাশ কাজ পেতে তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। কিন্তু সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরেও শুধু চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ না দেয়ার কারণে ত্রাণ মন্ত্রণালয় তার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়নি। এ ব্যাপারে আকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে টেলিফোনে ঘুষ দাবি করা তার পরিষ্কার ভয়েস রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে এ ব্যাপারে আর কোনো কথা বলতে চাননি আকাশ।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ( ত্রাণ) ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নিন্ম দরদাতাদের কাজ দেয়া হয়েছে। ঘুষ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বলতে গেলে সব কাজ করতে পারে আকাশ। এটা আমার জানা নেই। তারা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। গত ৯ বছরে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণের কম্বলের কাজ নিয়েছে আকাশের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রভাতী ও তালুকদার এন্টারপ্রাইজ। ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত