প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টানাপার্টির দৌরাত্ম্যে ভোরের ঢাকা যেন আতঙ্কের নগরী

ডেস্ক রিপোর্ট : ছিনতাইকারী ও টানাপার্টির দৌরাত্ম্যে ভোরের ঢাকা যেন এক আতঙ্কের নগরী। বিশেষ করে ভোররাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে টানাপার্টির খপ্পরে। মারাত্মক আহত বা নিহত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় না। সর্বশেষ গত শুক্রবার ভোরে ধানম-ির ৭ নম্বর রোডে ছিনতাইকারীর চক্র ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে গিয়ে এক নারীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করে। এর কিছুদিন আগে ছিনতাইকারীর টানে মায়ের কোল থেকে পড়ে মারা যায় ৫ মাসের ছোট্টশিশু।

ধানম-ির মর্মান্তিক ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। বর্বর এই হত্যাকা-ের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত মামলাও দায়ের হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের চেহারা ফুটেজে পাওয়া যায়নি। শুধু গাড়িটি দেখা গেছে। গাড়ির সূত্র ধরে মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগোচ্ছে।

গত চার মাসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচজন পথচারী প্রাণ হারান ছিনতাইকারীর হামলায়। একই সময়ে অনেক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও সব বিষয় থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় না। অনেক ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের মামলা নিতে গড়িমসি করে থানা পুলিশ। কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের নেতকর্মী থেকে শুরু করে উচ্চবৃত্ত পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে।

যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা রেকর্ড হয়েছে মাত্র ৯৮টি। অথচ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, গড়ে প্রতি মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন ২০ থেকে ২৫ জন।

গ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার বরিশাল থেকে লঞ্চে ঢাকায় ফিরছিলেন মনিরুল ও হেলেনা দম্পত্তি। সদরঘাট থেকে বাসে এসে নামেন ধানম-ি ৭ নম্বরে। এ সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তারা। প্রাইভেটকারে আসা ছিনতাইকারীরা হেলেনার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেয়। এ সময় বেসামাল হয়ে হেলেনা রাস্তার ওপর পড়ে গেলে ছিনতাইকারীরা তার ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই রাতে রাজধানীর গে-ারিয়া এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে অপর এক ব্যক্তি নিহত হন।

ধানম-ি থানার ওসি আমাদের সময়কে বলেন, হেলেনার পরিবার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। স্বজনরা ফিরলে মামলা করা হবে। অভিযুক্তদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ভোরে দয়াগঞ্জ এলাকায় ছিনতাইকারীরা রিকশারোহী মায়ের ব্যাগ টান দিলে কোলে থাকা ৫ মাসের শিশুসন্তান আরাফাত পড়ে গিয়ে মারা যায়। ওই ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনায় অভিযুক্ত ছিনতাইকারীদের খুঁজে বের করে পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিক্টিমোলজি অ্যান্ড রেসটোরেটিভ জাস্টিস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে একবার মাত্রা বেড়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা এখন সে ধরনের অবস্থা দেখছি। মায়ের কোলে ৫ মাসের শিশুও নিরাপদ নয়। তার মানে হলো, এটি একটি সামাজিক বিপর্যয়।
তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদের শুধু আইনি শাস্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। অপরাধীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে কর্মমুখী করাই মূল উদ্দেশ্যে হতে হবে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীতে ১৫০টির বেশি স্পটে শতাধিক ছিনতাইকারী সক্রিয়। ছিনতাই স্পটগুলোর মধ্যে মতিঝিল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের আশপাশের এলাকা, যাত্রাবাড়ী মোড়, কাকরাইল, ফার্মগেট, মৎস্য ভবন মোড়, শাহবাগ, গাবতলী, ধানম-ি, নিউমার্কেট, মিরপুর অন্যতম।
এ বিষয়ে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার ডিসি মো. মাসুদুর রহমান বলেছেন, ছিনতাইকারীদের দমনের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সেই আলোকে প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত