প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাবনায় সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট : অসংখ্য খানাখন্দে ভরা পাবনার বেশিরভাগ সড়ক-মহাসড়ক। সংস্কার না করায় দিন দিন বাড়ছে ভাঙা সড়কের পরিমাণ। যাত্রী আর চালকদের কাছে এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কগুলো।

চলাচলের অনুপযুক্ত এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। কিন্তু এসব দেখার কথা যাদের, তাদের মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে খোদ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোর ৫০ শতাংশের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না মেলায় হচ্ছে না সংস্কার।

‘ইডা রাস্তা নাকি অন্য কিছু, একবার গেলি সারা শরীল ব্যথা হয়া যায়, গাড়িত বইসে থাকা যায় না, সরকার কি দ্যাহে না আমাগারে কিরহম কষ্ট।’ পাবনা-চাটমোহর মিনি মহাসড়কের মহেষপুরের প্রবীণ আফসার আলী। এমন আক্ষেপ আর কষ্ট শুধু আফসার আলীর নয়। সবার মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে এই দুর্ভোগের কথা।

সুস্থ মানুষ যে সড়কে একবার যাতায়াত করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন, সেখানে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা ভাবাই যায় না। এমন বেহাল দশা পাবনার বেশিরভাগ সড়ক-মহাসড়কের। কোথাও ছোট, কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের এক পাশ থেকে আরেক পাশ সবটাই ভেঙে একাকার। এর মাঝেই চলছে বাস, ট্রাক, অটোরিকশাসহ সব যানবাহন।

অসংখ্য খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল করতে একদিকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ অন্যদিকে সময় ব্যয় হচ্ছে বেশি। সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, পাবনা জেলায় সড়ক বিভাগের আওতায় মোট সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে ৫২১ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১৫৯ দশমিক ৬১ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১৬৩ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১৯৮ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার। এসব সড়কের ৫০ শতাংশের বেশি এখন চলাচলের অনুপযোগী। চাটমোহর উপজেলার পাঁচুরিয়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম, মূলগ্রামের ছইমুদ্দিন প্রামাণিক, অমৃতকুণ্ডা গ্রামের ফজের আলী সমকালকে জানান, এ রাস্তা দিয়ে আর যাওয়ার উপায় নেই। খালি ভাঙা, আর গর্ত। গাড়িতে বসে থাকা কঠিন হয়ে যায়। ঝাঁকুনিতে কোমর, পেট ব্যথা হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়।

শুধু যাত্রীরাই নয়, হাজারো গর্তে ভরা সড়কে যাতায়াত করতে ভোগান্তির শেষ নেই চালকদেরও। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ি। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জহুরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম জানান, চাটমোহর থেকে পাবনার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। আগে যেতে সময় লাগত ৪০ মিনিট। আর রাস্তা ভাঙার কারণে এখন সময় লাগে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। আর যে পরিমাণ ভাঙা তাতে গাড়ি মাঝে মধ্যে নষ্ট হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলতে রাজি হননি পাবনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায়। তবে সহকারী প্রকৌশলী বখতিয়ার আলম জানান, পাবনায় মোট সড়কের ৫০ ভাগের বেশি ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে যে বরাদ্দ রয়েছে, তা দিয়ে সব সড়ক মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হয় তা খুবই সামান্য। সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। সেই বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লেখা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কার বা মেরামত কাজ করা যাবে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত