প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেয়র বিদেশে, ভরাট হচ্ছে শতবর্ষী পুকুর

ডেস্ক রিপোর্ট : কিশোরগঞ্জে শতবছরের পুরনো একটি পুকুর ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকে ২০-২৫টি ট্রাক্টর লাগিয়ে পুকুরের এক-তৃতীয়াংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে। জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় মীর স’ মিল সংলগ্ন প্রায় ৬০ শতাংশ জায়গাজুড়ে অবস্থিত পুকুরটি।

৩০ বছর ধরে শতবর্ষী এই পুকুরে ব্যতিক্রমধর্মী ভাসমান প্যান্ডেল তৈরি করে প্রতিবছর কালীপূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসন ও পুলিশকে ম্যানেজ করে পুকুর ভরাট করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ বর্তমানে বিদেশ সফরে রয়েছেন। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পুকুরে মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, এক রাতেই পুকুরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, পুকুরটির মালিক মঙ্গলবাবু। তার মৃত্যুর পর তার পাঁচ ছেলে পুকুরটির মালিকানায় রয়েছেন। সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে মঙ্গলবাবুর ছেলেদের সঙ্গে বায়নাপত্র করে পুকুরটি নিজেদের জিম্মায় নেয়। পরে তারা রাতের অন্ধকারে পুকুরটি ভরাটের উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার রাত থেকে তারা পুকুর ভরাটের জন্য ২০-২৫টি ট্রাক্টর লাগিয়ে মাটি আনা শুরু করে। গভীর রাতেই সাংবাদিকরা ঘটনাটি জেলা প্রশাসককে জানালে বিষয়টি শনিবার দেখবেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবাবুর বড় ছেলে দুলাল বসাকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তার বাসায় গিয়ে ছোট ছেলে সজীব বসাককে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন না। তার বড় ভাই দুলাল বসাক সবকিছু জানেন।

গতকাল পৌরসভার সচিব হাসান জাকির বলেন, পুকুর ভরাট না করার জন্য আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। বর্তমানে মেয়র দেশে নেই। আর বিষয়টি পৌর প্রকৌশল বিভাগ দেখে থাকে। তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি প্রতিবেদককে বলেন।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুস সালাম বলেন, খোঁজ-খবর নিচ্ছি। মেয়র না থাকলে আমরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ি। আজ রোববার কিছু করা যায় কি-না দেখব। আপনি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়ার কথা বললে তিনি নীরব থাকেন।

সদর মডেল থানার ওসি খোন্দকার শওকত জাহান বলেন, ঘটনাস্থলে জনস্বার্থে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কোনো ট্রাক্টর পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা মঞ্চের (পরম) সভাপতি অধ্যাপক শরীফ সাদী বলেন, ঢাকায় আছি তাই কিছু বলতে পারছি না। তবে শহরে পুকুর ভরাট করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুকুর ভরাট করা পরিবেশ আইনের লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দালন-বাপার জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী বলেন, পুকুর ও জলধার ভরাট করা আইনের লঙ্ঘন। পৌরসভার কেন্দ্রস্থলে মঙ্গলবাবুর পুকুর ভরাট করা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তিনি জানান, ইউএনও আবদুল্লাহ আল মাসউদকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যথায় বাপা আন্দালনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত