প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যানজটে স্থবির চারপাশ
মেলা যেন জনসমুদ্র

তারেক : ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শেষ হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি। মেলায় ছুটির দিনে মানুষের জন স্রোতে রুপ নিয়েছে। মেলায় যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন নগরবাসী। আগারগাঁও অঞ্চলে শুধু মানুষ আর মানুষ। বিশাল এ জনসমুদ্রে বিন্দুমাত্র জায়গা ছিল না মেলায়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে মেলার বাহিরেও পা রাখার জায়গা নেই। আগের দিন শুক্রবারের মতো গতকাল শনিবারও সন্ধ্যার পর মেলার অবস্থা আর বেগতিক হয়ে উঠে। মেলায় এতোটাই লোকসমাগম হয় যে, যে একে-অপরে শরীরে ধাক্কা লাগার মত অবস্থা। সামনের পা ফেলাবার মতো কোথাও ফাঁকা জায়গা ছিল না। এতে ২৩তম বাণিজ্য মেলায় গত শুক্র ও গতকালই সবচেয়ে বেশি ক্রেতা-দর্শনাথী প্রবেশ করেন। ফলে একদিনে টিকিট বিক্রি হয়েছে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখের বেশি। যা রেকর্ড হয়েছে এবারের মেলায়।

সময় বৃদ্ধি না হলে আজই (শনিবার) হবে বাণিজ্য মেলার শেষ ছুটির দিন। তাই দিনের শুরুতেই মেলায় আসতে শুরু করে মানুষ। কয়েক দিনের তুলনায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে দুপুরের পর মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উপচেপড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে। মেলা প্রাঙ্গণসহ এর আশপাশের এলাকাও হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য। দুপুরের পর থেকে মেলার প্রবেশ লাইন লম্বা হতে থাকে। শেষ বিকেলে মানুষের ভিড়ে মেলায় পা ফেলাও দায় হয়ে পড়ে। বিকেল ৪টার পর দর্শনার্থীদের ঢল মেলা প্রাঙ্গণ থেকে গেটের সামনের ফাঁকা স্থান হয়ে আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে দর্শনার্থীদের নিয়ে আসা গাড়িও ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার বিভিন্ন দিকে। ফলে অনেকে মেলার ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

গাজীপুর থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি করে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মেলায় আসেন মো. জহির আহমেদ। বিকেল পৌনে ৫টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত হন। কিন্তু সামনে এগিয়ে দেখেন গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই মেলায় প্রবেশ না করে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

মেলার গেটে দায়িত্বপালন করা একাধিক কর্মী বলেন, আজ (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে শুরু করেন। বিকেলে মেলা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কোথাও যেন পা ফেলার জায়গা নেই।

জানা গেছে, দুপুরের পর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত চলে আসে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের লাইন। দর্শনার্থীদের মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় মেলার বাইরে দায়িত্বে থাকা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম নিয়ে তাদের অভিযোগ নেই। পণ্য পছন্দ হলেই কিনছেন তারা। আর ক্রেতা আকৃষ্ট করতে মিষ্টি কথার পাশাপাশি কেউ দিচ্ছেন মূল্যছাড়সহ নানা অফার। থাকছে গ্যারান্টিসহ বিক্রয়োত্তর নানা সেবার নিশ্চয়তা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও মেলায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে গৃহস্থালি পণ্যের। পুরোদমে কেনাকাটা শুরু না করলেও ক্রেতারা বেছে বেছে গৃহস্থালি পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো ঘুরছেন। পছন্দ হলে কেউ কেউ কিনছেন। আরএফএল, বেঙ্গল, পারটেক্স, আকতার ফার্নিচার, নাভানাসহ বিভিন্ন গৃহ সামগ্রীর স্টল ও প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।

বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, প্রতি বছরই মেলা উপলক্ষে সব ধরনের পণ্যে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। তাই শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে সব বয়সের ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর মেলা প্রাঙ্গণ। মাসব্যাপী মেলার এ সময়ে জমে উঠেছে কেনাবেচা। ফলে স্টল-প্যাভিলিয়নে ছুটে আসছেন গ্রাহকরা। যুগান্তর, জাগেনিউজ, ইনকিলাব, সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত