প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাহুল গান্ধীর আসন নিয়ে চাপান-উতর

আশিস গুপ্ত ,নয়াদিল্লি : রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে দেশের প্রধান বিরোধী দলের সভাপতির বসার আসন এ বারে পিছনো হল। রাহুল গাঁধী বসলেন একেবারে ষষ্ঠ সারিতে।অথচ গত বছর পর্যন্ত কংগ্রেস সভানেত্রী হিসাবে প্রথম সারিতেই বসে এসেছেন সনিয়া গাঁধী। ক্ষুব্ধ কংগ্রেস বলছে, এ হল নরেন্দ্র মোদী সরকারের সস্তা রাজনীতি আর অহঙ্কারের নমুনা। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কংগ্রেসের সভাপতিকে প্রথম সারি থেকে হটিয়ে বসানো হল ছয় নম্বরে। আর সরকারের যুক্তি— ‘প্রোটোকল’। কিন্তু তাতেও অঙ্ক মিলছে কোথায়? আর এই নিয়েই এবার বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। কিন্তু কেন রাহুলকে এভাবে অসম্মান করা হল? প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাফাই, নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা।

এসপিজি বা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের অনুরোধেই নাকি রাহুলকে ষষ্ঠ সারিতে বসানো হয়েছিল। যাতে যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সহজেই তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যায়। যদিও এ ঘটনাকে ঘিরেই দু’‌দলের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করে সস্তা রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছে কংগ্রেস।

এই প্রসঙ্গে দলের নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘সরকার নোংরা রাজনীতি করছে। এই ঘটনায় দীর্ঘদিনের প্রোটোকল ভাঙা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্থা করা হয়েছে রাহুলকে। সনিয়া গান্ধী দলের সভপতি থাকাকালীন সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে বসতেন।’ যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কংগ্রেসের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।রাহুল অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকরা এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলে রাহুল বলেন, ‘‘এ সবকে আমি পরোয়া করি না!’’ তবে স্বাধীনতার পরে এই প্রথম কংগ্রেস সভাপতির প্রথম সারিতে জায়গা হল না। এতদিন কংগ্রেস শাসক হোক বা বিরোধী, দলের সভাপতি প্রথম সারিতেই বসতেন।

সূত্রের খবর, সরকারই এবার তাঁকে প্রথম সারিতে জায়গা দেয়নি। তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবার রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। তাঁকে প্রথম সারিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। লোকসভায় এখন কংগ্রেসের ৪৬ আসন রয়েছে। সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দল তারা। তবুও জায়গা পেলেন না রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেসের আরও অভিযোগ— শুধু আসন রাজনীতিও নয়, প্রথা অমান্য করে রাহুলের সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের দেখা করতেও দিচ্ছেন না মোদী সরকার। কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, ‘‘সাধারণত কোনও বিদেশি নেতা ভারত সফরে এলে বিদেশ মন্ত্রকই বিরোধী নেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনার আয়োজন করে। কিন্তু ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হোন বা এখন ভারত সফরে থাকা আসিয়ানের রাষ্ট্রপ্রধানরা, কারও সঙ্গে রাহুলের বৈঠক কর্মসূচিতে রাখেনি সরকার।’’

সর্বাধিক পঠিত