প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদন
রাশিয়ার অত্যাধুনিক অস্ত্র চায় মিয়ানমার, তবে চীন এখনো বড় খেলোয়াড়

হাসান: চীনা সামরিক সরঞ্জাম ও জঙ্গিবিমানের মান নিয়ে খোলামেলা অসন্তোষ প্রকাশের ব্যাপারে কোন রাখঢাক রাখেননি মিয়ানমারের জেনারেলরা। কিন্তু তারা এটাও জানেন যে দেশটির উপর চীনা প্রভাব থেকেই যাবে বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের সঙ্কট নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে তীব্র চাপের মুখোমুখি হচ্ছে মিয়ানমার।

জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিলের একজন সদস্য জানান, মিয়ানমার তাদের দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী চীন ও ভারতের পাশাপাশি রাশিয়ার সাথেও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখবে।

অনেকে অস্বীকার করলেও, কর্মকর্তা এবং জেনারেলরা রাখাইন রাজ্যের সঙ্কট নিয়ে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছেন। মনে হচ্ছে যেন পুরনো অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে মিয়ানমার যখন তারা সামরিক শাসনের অধীনে ছিল এবং তাদেরকে সবসময় পশ্চিমা শক্তি ও জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের ভয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হতো।

গত সপ্তাহে মিয়ানমার সফর করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সার্গেই শোইগু। এ সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে ছয়টি সু-৩০ জঙ্গিবিমান বিক্রির ব্যাপারে রাজি হয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলেক্সান্ডার ফোমিন বার্তা সংস্থা তাসকে জানিয়েছেন, “মিয়ানমারের আঞ্চলিক সংহতি রক্ষা এবং সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলায় এ বিমানগুলো মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর প্রধান অস্ত্রে পরিণত হবে।”

সু-৩০ দুই ইঞ্জিন ও দুই আসনবিশিষ্ট অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমান যেটা তৈরি করেছে রাশিয়ার সুখোই অ্যাভিয়েশান কর্পোরেশান এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়ায় অভিযানের সময় যেটা ব্যবহার করেছিল রাশিয়া।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্তমানে অ্যাডভান্সড মিগ-২৯ এবং পুরনো এফ-৬, এফ-৭ এবং এফ-৫ জঙ্গিবিমান রয়েছে যেগুলোর পরিবর্তন করতে হবে।

আরও বড় প্রতিরক্ষা বাজেট

মিয়ানমার সেনাবাহিনী সবসময় তাদের বাহিনীকে আরও আধুনিক করে গড়ে তুলতে চেয়েছে। এ বছর তারা ছয় মাসের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে ১.৩ ট্রিলিয়ন কিয়াট (এক বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে।

ধরে নেয়া যায়, বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রতিরক্ষা বাজেট কখনই কাটছাট করা হয়নি, বরং বেড়েছে অনেক সময়।

বলা হয় যে, ২০১১ সালে মস্কো ও নেপিদোর মধ্যে সামরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকেই এটা কেবল বেড়েই চলেছে। গত দশকের সামরিক শাসনকালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সামরিক সরঞ্জামের জন্য চীনের উপরই বেশির ভাগ সময় নির্ভর করতে হয়েছিল মিয়ানমারকে। কিন্তু চীনা অস্ত্রের মান নিয়ে জেনারেলরা অভিযোগ করার পর তারা আস্তে আস্তে সে জায়গা থেকে সরে এসেছে।

আরও মানসম্পন্ন অস্ত্রের সন্ধান করছিল মিয়ানমার আর মস্কোও সে সময় এগিয়ে আসে। ২০০০ সালের পর থেকে মিয়ানমারের শত শত সেনাকে প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরকালে জানানো হয়, বর্তমানে ছয় শতাধিক মিয়ানমারের সেনা রাশিয়াতে উচ্চ সামরিক শিক্ষা নিচ্ছে।

এখনও বড় ভাই চীন

চীনা সামরিক সরঞ্জামাদির গুণগত মান এবং সীমান্ত এলাকায় কিছু জাতিগত গ্রুপকে সমর্থন দেয়ার কারণে চীনের সাথে কিছু সমস্যা রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর। কিন্তু রাখাইন রাজ্যের সঙ্কট নিয়ে দেশটি যখন প্রচণ্ড আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে, তখন কূটনৈতিক সমর্থনের জন্য চীনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অং সান সু কি এবং মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।

রাখাইন সমস্যা নিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিল চীন। পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছিল তারা।

চীন সে সময় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আরও প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত বিনিময় বাড়ানো এবং দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছিল।

মজার বিষয় হলো, পশ্চিমা সরকারগুলোর সাথে মধুচন্দ্রিমা শেষ করে মিয়ানমার আবার তার পুরনো মিত্রদের দিকেই ফিরছে। চীনের আরও কূটনৈতিক সমর্থনের দরকার হবে মিয়ানমারের, যদিও সন্দেহ নেই, অন্যান্য দেশ থেকেও আরও অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা চালু রাখবে মিয়ানমার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত