প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফাইনালের দুঃখ থেকেই গেলো মাশরাফিদের

এল আর বাদল : গত বৃহস্পতিবার লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ইনিংসের শুরুতে তামিম, সাকিব আর এনামুল হক যখন বিদায় নেন, তখন দর্শক গ্যালারি থেকে চিৎকার দিয়ে বেরিয়ে যান এক ক্রিকেট পাগল রহমত উল্লাহ। ওই দিন এই প্রতিবেদক প্রেসবক্সে না বসে বাংলাদেশের ব্যাটিং উপভোগ করতে সাধারণ গ্যালারিতে বসেছিলেন। তিন তারকার উপর রাগে ক্ষোভে হন হন করে বেরিয়ে যান দুই নম্বর গেট ধরে। তার সঙ্গে বেরিয়ে
পড়লাে এই প্রতিবেদকও। চিৎকার করে জানতে চাইলাম, ভাই আপনার নাম কী? হোম ডিসট্রিক্ট কোথায়? ঘাড় না ঘুড়িয়েই বললেন, ত্রিশাল থেকে এসেছি। ত্রিশাল হচ্ছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের একটি উপজেলা। ওই দিনে মাশরাফির দল ৮২ রানে অলআউট হয়। শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ হারে ১০ উইকেটে।

কথাগুলো এ কারণে বলা, বৃহস্পতিবারের ম্যাচেরই আজ পূনরাবৃত্তি ঘটাল টাইগার সেনারা। আজ শ্রীলঙ্কার ২২১ রানের চ্যালেঞ্জহীন স্কোরের পেছনে দৌঁড়াতে গিয়ে ২২ রানের মধ্যে মাঠ ছাড়েন তামিম ইকবাল, সাব্বির ও মো. মিথুন। মাহুমুদ উল্লাহ রিয়াদ হাল ধরলেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় ৭৯ রানে হেরে মাঠ ছাড়লো স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের এই চিত্র দেখে বেচারা রহমতউল্লা কতোটা নাভিশ্বাসে ছিলেন, কে জানে।

রহমতউল্লাহর মতো হাজারো ক্রিকেট পাগলের এখন ত্রাহিদশা। ত্রিদেশীয় সিরিজে উড়তে থাকা বাংলাদেশকে বৃহস্পতিবার মাটিতে নামিয়ে আনার পর আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে হাথুরুর সেনারা। ফাইনালে ব্যাটিংয়ে খুব বেশি এগোতে না পারলেও হাতে কিন্তু ম্যাজিক দেখেয়েছেন লঙ্কান বোলাররা। ২২ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার শেহান মাদুশানাকা হতবাক করে দিলেন ক্রিকেট বিশ্বকে।

বাংলাদেশের কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজের সঙ্গে তুলনা করেই মাশরাফিদের বিরুদ্ধে হাথুরুর নতুন আবিষ্কারকে অভিষেক করান।

অভিষেক ম্যাচেই এই পেসার হ্যাটট্রিক উইকেট আদায় করে নিলেন মাশরাফি, মাহমুদ উল্লাহ ও রুবেলকে ফিরিয়ে। বোলারদের বিধ্বংসী রূপের সামনে ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় লাল-সবুজের দল। সাকিবের অনুপস্থিতিও টের পেয়েছে বাংলাদেশ। লঙ্কান ইনিংসের ৪২তম ওভারে ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাতে ভীষণ চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এই শীর্ষ অলরাউন্ডার। হাতে ছয়টি সেলাই নিয়ে মাঠে ফিরলেও ২২ গজে আর নামা হলো না।

সবাই যখন নামকাওয়াস্ত রান নিয়ে মাঠ ছাড়তে ব্যস্ত, তখন দলের শক্ত খুটি হয়ে ক্রিজে দাঁড়ালেন মাহমুদ উল্লাহ। তবে শেষ রক্ষা হলো না। ৯২ বলের মোকাবিলায় ৬টি বাউন্ডারী আর ৩টি ওভার বাউন্ডারীর কল্যাণে ৭৬ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে আউট হন। সেই সঙ্গে শিরোপা অধরাই থেকে গেলো টাইগারদের।

কোন টুর্নামেন্টের ফাইনালে এর আগে একবারই শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেটাও ছিল এমন এক ত্রিদেশীয় সিরিজেই। ২০০৯ সালের সে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সামনে ১৫৩ রানের লক্ষ্য রেখে মাত্র ৬ রানেই ৫ লঙ্কান ব্যাটসম্যানের উইকেট শিকার করেছিল টাইগাররা। যদিও শেষে হার মেনে নিতে হয়েছিল তাদের।

ফাইনালে আবার মুখোমুখি লড়াইয়ে এবার দারুণ শুরু পায়নি বাংলাদেশ। তবে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভাল বোলিংই করেছেন মাশরাফিরা। ভাল শুরুর পর মাঝখানে লঙ্কানদের রানরেট কিছুটা বেড়ে গেলেও ৪ উইকেট নিয়ে শেষটা দারুণভাবে মুড়ে দিয়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা অল আউট হয় ২২১ রানে।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ- উপল থারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত