প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে দেওয়ার ফন্দিতে মেতেছে মিয়ানমার’

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: দীর্ঘ ফরম পূরণের নামে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে দেওয়ার ফন্দিতে মেতেছে মিয়ানমার, পাশাপাশি মিয়ানমারের দেওয়া এই নতুন প্রত্যাবাসন ফরমকে রোহিঙ্গাদের জন্য ফাঁদ হিসেবে দেখছেন, শরণার্থী বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে তালিকা দেয়া হয় তা নিতে অস্বীকার করে মিয়ানমার। আর বাংলাদেশের কাছে তারা তুলে দেয় ৫ পাতার একটি নতুন ভেরিফিকেশন ফর্ম। পাশাপাশি দাবি করে, একটি পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে গণনা করা হবে।

মিয়ানমারের দেওয়া এই ৫ পাতার এই ফর্মে রয়েছে পরিবারের কর্তাব্যক্তির ছবি, সিরিয়াল নম্বর, তারিখ, লিঙ্গ, জন্মস্থান, বাবা মায়ের নাম, শনাক্তকরণ চিহ্নসহ পরিবার প্রধানের ১৮টি এবং সদস্যদের ১১টি তথ্য। আর ফর্মের নিচের দিকে লেখা রয়েছে রোহিঙ্গারা এই ফরমের সব আইন মেনে নিজ ইচ্ছায় মিয়ানমারের দেশটিতে প্রবেশ করবেন।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ফরমের এই পুরো প্রক্রিয়াকে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ফাঁদ বলে মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, আমরা সকলের কথা বিবেচনা করেই তালিকা তৈরি করছি, শুধু নির্দিষ্ট কোনো অংশের কথা ভেবে নয়। পুরো তালিকা তৈরি হয়ে গেলে আমরা গ্রাম ভিত্তিক পাঠানোর চেষ্টা করবো, যাতে ওখানে যেয়ে ওরা সংঘবদ্ধভাবে থাকতে পারে। আর সবকিছু মাথায় রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং সময় মতোই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কাজ এগিয়ে যাবে।

আসিফ মুনির আরও বলেন, জটিল এই ফর্ম পূরণের নামে মিয়ানমার নতুন করে সময় নষ্ট করবে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পুরো প্রক্রিয়াটিই ঝুলে যাবে। আর মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে যে খেলাটা খেলছে, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ সরকার সেটা জানে। তাই এই খেলাটাকে মোকাবেলার জন্য কঠোর তৎপরতার দরকার।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে গত বছরের অক্টোবরে শুরু হয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এবং এই পর্যন্ত সাড়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শেষ হয়েছে।

সূত্র : চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত