প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাপ গোপন রাখতে রাসুল (সা.) নির্দেশ

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: প্রিয় নবী (সা.) আমাদের আদর করে মায়া করে শিক্ষা দিয়েছেন জীবন চলার সব কিছু। অন্যের পাপ গোপন রাখতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আমাদের মাঝে কেউ যদি এমন কোন খারাপ কাজ করে বসে যা আল্লাহ্র আদেশ বিরুদ্ধ বা নৈতিক চরিত্র বিরুদ্ধ কিংবা অন্যের জন্য মর্যাদাহানিকর, সেক্ষেত্রে তার উচিৎ তা গোপন রাখা। কৃতকর্মের জন্য একান্ত নিভৃতে আল্লাহ্র কাছে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করা। প্রিয় নবী (সা) বলেছেন, আমার সমগ্র উম্মাহ্ নিরাপদ, কেবল তারা ব্যতীত যারা কিনা তাদের পাপ নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। তাদের কেউ যখন কোন কুকর্ম করে রাতে ঘুমাতে যায় এবং আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সে বলতে থাকে, এই শোন, আমি না কাল রাতে এই এই (কুকর্ম) করেছি। সে যখন ঘুমাতে যাই, আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহ্ যা গোপন রেখেছিলেন তা সে লোকজনের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায় (বুখারী) জায়িদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্র রাসূল (সা) এর সময়ে এক লোক যখন স্বীকার করল যে, সে ব্যভিচার করেছে, তখন আল্লাহ্র রাসূল (সা) একটি চাবুক চাইলেন। যখন তাকে একটি ছেঁড়া/পুরানো চাবুক দেওয়া হল তিনি বললেন, এটার চেয়ে ভাল নেই?” তখন একটি নতুন চাবুক আনা হলে তিনি বললেন, এটার চাইতে একটু পুরাতন দেখে নিয়ে আস। এরপর এমন একটা চাবুক আনা হল যেটা ছিল (ব্যবহারের ফলে) একটু পুরানো/নরম। তখন তিনি ওটা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে একশো র্দোরা মারার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহ্র সীমা অতিক্রম করোনা। কেউ এই ধরনের ঘৃণিত কোন অপরাধ (যেমন ব্যভিচার) করে বসলে, সে যেন তা গোপন রাখে, কারন কেউ যদি তা প্রকাশ করে বসে, তবে আমরা তার ব্যাপারে বর্ণিত শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আল্লাহ্র কিতাবের বিধান কার্যকর করব। (মুসনাদ আহমদ)

আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে শুধুমাত্র গুনাহগারদেরকেই সতর্ক করেননি, যারা গুনাহের কথা বলে বেড়ায় তাদেরকেও সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা পছন্দ করে যে,ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক, নিঃসন্দেহে ইহাকাল ও পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ্ জানেন,তোমরা জানো না। (সূরা আন-নূর-২৪) সূরা নিসায় আল্লাহ্ বলেন, আল্লাহ্ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ্ শ্রবণকারী,বিজ্ঞ। (সূরা নিসা-১৪৮) ইবনে আব্বাস (রা) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, আল্লাহ্ পছন্দ করেন না যে, আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বদ্দোয়া বা মন্দ বিষয় প্রকাশ করি, যদি না আমাদের উপর অন্যায় করা হয়। তবে যদি কারো উপর জূলূম করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এই ব্যাপারে আল্লাহ্র অনুমতি রয়েছে। তারপরও এই ব্যপারে ধৈর্য ধারন করাই উত্তম। (তফসীর ইবনে কাসীর) আল্লাহর বিধান মান্য করে তার হুকুম মানার মধ্যেই দুনিয়া আখেরাতের সফলতা। সমাজ রাষ্ট্র পরিবার সবকিছুতেই শান্তি আসবে গুনাহ পরিত্যাগের মাধ্যমে। আল্লাহ গুনাহ থেকে আমাদের হেফাজত করুন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত