প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নদী রক্ষায় যা করণীয়

ডেস্ক রিপোর্ট : নদীতে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দখল রোধের দায়িত্ব দেওয়া আছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। আবার নদীর দূষণ ঠেকানোর দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। এভাবে নদী রক্ষার সঙ্গে জড়িত আছে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। নদীর অবৈধ দখল ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে আছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইনও। তবুও রক্ষা পাচ্ছে না নদী।

তাহলে উপায় কী? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা— : আইন সংশোধন করে কমিশনকে শক্তিশালী করা ও নদী আদালত গঠন : নদীর অবৈধ দখল ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে আছে যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন আছে তা দিয়ে নদী রক্ষা সম্ভব নয় মন্তব্য করেছেন কমিশনেরই সাবেক চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম। দ্রুত আইন সংশোধন করে নদী রক্ষা কমিশনকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তা ছাড়া নদী আদালত গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আতাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যখন নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন একটি নদী আদালত করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সফল হতে পারেনি।’ আতাহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নদী রক্ষায় কমিশনের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। আইনটিও অত্যন্ত দুর্বল। নদীর দখল, দূষণ ও অবকাঠামো নির্মাণ হলে তা ঠেকাতে শুধু সরকারের কাছে সুপারিশ করতে পারে নদী রক্ষা কমিশন। দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।’

অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আমরা অবৈধ দখলদার ধরতাম। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতাম না। কারণ আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমরা শুধু সরকারকে অনুরোধ করতে পারতাম। ক্ষমতা দিতে হবে নদী রক্ষা কমিশনকে।’

ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের ভূমিকা : নদী বিশেষজ্ঞ ম ইনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত সবখানেই আমরা ময়লা-আবর্জনা সব নদীতে ফেলছি। শিল্প-কারখানার বর্জ্য গিয়ে পড়ছে নদীতে। উজান থেকে নেমে আসা পলি এসে পড়ছে নদীতে। ময়লা-আবর্জনার কারণে একদিকে যেমন জলজ প্রাণী হুমকিতে পড়ছে। অন্যদিকে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে।’

তাহলে নদী রক্ষায় কি করণীয় জানতে চাইলে ইনামুল হক বলেন, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের সব ব্যবস্থা নিতে হবে পরিবেশ অধিদপ্তরকে। আর জলাভূমির লিজ বন্ধ করতে হবে ভূমি মন্ত্রণালয়কে। সেই সঙ্গে জলাভূমি রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে মৎস্য অধিদপ্তরকে। আর আন্তর্দেশীয় নদীতে পানির প্রবাহ বাড়াতে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।

দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা : পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদী দখল, দূষণ হচ্ছে। ভরাট হচ্ছে। যারা এসব অবৈধ কাজ করছে, তারা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। তিনি বলেন, ‘যারা আইন অমান্য করছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার আগ পর্যন্ত নদী দখল চলতেই থাকবে।’

রাজনৈতিক সদিচ্ছা : স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয়। নদী বাঁচাতে আমরা যতই বুলি দেই, এর প্রতিকার করতে হবে রাজনীতিবিদদের।’

ড্রেজিং : তা ছাড়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ, উজান থেকে নেমে আসা পলি। নদীগুলোতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের (গভীর নদী খনন) ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে প্রতিবছর সেগুলোর ব্যবস্থাপনার কথাও বলছেন তাঁরা। সূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত