প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার মামলার রায়
উত্তপ্ত রাজনীতি

উম্মুল ওয়ারা সুইটি ও শাহানুজ্জামান টিটু: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হবে কি হবে না সেটা নিয়েই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির অঙ্গণ। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রায় রাজনৈতিক মেরুকরণ পাল্টে দেবে এমনই মন্তব্য সব মহলের।

ইতিমধ্যেএই রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরকে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। রায়ে দলীয় চেয়ারপারসনের সাজা হলে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ কোনরূপ নেবে তা বলতে পারছেন না বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বিষয়টি আদালতের হলেও বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, দেশব্যাপী যে সেন্টিমেন্ট তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়তো সম্ভব হবে না। দলের পক্ষ থেকে এই মামলা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।

আবার ৮ ফেব্রুয়ারির এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি যেনো কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেই প্রস্তুতি রয়েছে বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেবে দল।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গেলে জনগণ তার দায়িত্ব হাতে তুলে নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, সেদিন কোনো কিছু ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না তারা। তিনি বলেন, সেদিন নেতিবাচক কোনো রায় হয় তবে এই সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে। সময় বলে দেবে কারা রাজপথে থাকবে। খালেদা জিয়ার প্রতি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চান শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়াকে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত আদালত কর্তৃক যদি শেখ হাসিনা তার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চান, তাহলে জনগণই তার দায়িত্ব নেবে। তার জবাব শেখ হাসিনা পাবেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সাজাকে ভয় পান না। মৃত্যুর জন্য যারা সব সময় প্রস্তুত, তাদের আবার কিসের সাজার ভয়? জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, এখনও পুরো দেশটাই একটা বৃহত্তর কারাগার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, খালেদা জিয়ার গায়ে যদি একটা ফুলের আঁচড়ও পড়ে তখন বাংলাদেশ গর্জে উঠবে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি হচ্ছে ফয়সালার ডেট। ফয়সালা না হলে রাজনৈতিকভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ গর্জে উঠবে। দুদু বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটাই কথা বলব, শেখ মুজিবকেও পাকিস্তানী বাহিনী সাজা দিয়েছিল। তাতে তিনি কি ছোট হয়ে গিয়েছিলেন? না, তিনি জাতির বীর সন্তান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তার দলের নেত্রীকে জেলে নেয়ার চেষ্টা হলে দেশে আগুন জ্বলবে। রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালে যেভাবে গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল, ঠিক সেইভাবে একই কায়দায় তার কন্যা দেশ পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে দেশে আবার কোনো জ্বালাও-পোড়াও হলে তাতে বিএনপিই পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রায় ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা বা ধংসাত্মক কার্যকলাপের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। কারণ তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। পেশাদার এবং জনগণের বন্ধু। সুতরাং জনগণের ক্ষতি হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের চেয়ারপারসনকে সাজা দেওয়ার বিষয়টি সরকার আগেই ঠিক করে রেখেছে। খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে সরকার নির্বাচন করতে চায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি কিভাবে জানে রায়ে কি সাজা হবে? আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল থাকতে বিএনপি নেতাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য,২০০৮ সালে তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে। সম্পাদনা: ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত