প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জ্বালানি ও পারমাণবিক খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থান সংহত করেছে রাশিয়া

মাছুম বিল্লাহ : বাংলাদেশের তেল ও গ্যাস শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি পারমানবিক প্রকল্পে প্রধান সহযোগী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে রাশিয়া। মস্কো ভিত্তিক ওয়েব পত্রিকা নিউ ইস্টার্ন আউটলুকে এক কলামে এ দাবি করেছেন রাশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিমিত্রি বোকারেভ।

গত ২৩ জানুয়ারি ‘রাশিয়া স্ট্রেনদ্যান ইটস পজিশন ইন বাংলাদেশ থ্রো এনার্জি’ শিরোনামের ওই কলামে লেখা হয়েছে, পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। কিন্তু এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে দেশটি। অনেক দেশই এখন বাংলাদেশে লাভজনক বিনিয়োগে আগ্রহী, বিশেষ করে সেখানকার সম্প্রসারণশীল বাজার ও সস্তা জনবলের কারণে। এই আগ্রহী দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কিছু দেশ।

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে রাশিয়া। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক এগিয়ে গেছে। দেশটির তেল ও গ্যাস শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি পারমানবিক প্রকল্পে প্রধান সহযোগী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে রাশিয়া।

জ্বালানি সংরক্ষণ বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। দেশটির সীমানার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের রিজার্ভ রয়েছে, যেগুলোর উপর ভিত্তি করে দেশের উন্নয়ন হতে পারে। কিন্তু, ২০০০ সালের পর থেকে সেখানে তেল গ্যাস অনুসন্ধান বা উন্নয়নের কোন কাজ হয়নি।

২০১০ সালে নতুন করে হাইড্রোকার্বণের অনুসন্ধান, সেগুলোর উন্নয়ন এবং এ অঞ্চলে একটা সমন্বিত গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য রাশিয়ার সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সাথে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কর্পোরেশন গ্যাজপ্রমের দর কষাকষি শুরু হয়। এর পরপরই বাংলাদেশে খনিজ, তেল ও গ্যাস কর্পোরেশন পেট্রোবাংলার সাথে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে গ্যাজপ্রম।

রাশিয়া ও বাংলাদেশের আরেকটি যোগাযোগের জায়গা হলো-পারমানবিক শক্তি প্রকল্প। ২০১১ সালে রুপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে জন্য চুক্তি করে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। এর দায়িত্ব দেয়া হয় রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটকস্ট্রোয়এক্সপোর্ট’-কে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অ্যাটমিক কর্পোরেশান ‘রোজঅ্যাটমের’ অধীন একটি প্রতিষ্ঠান এটি।

২০১৫ সালে রোজঅ্যাটমের প্রধান সার্গেই কিরিয়েঙ্কো বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময়ই মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং জানা যায়, প্রকল্পের খরচ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এই অর্থেই প্রায় পুরোটাই গত ২০১৬ সালে বাংলাদেশকে ঋণ হিসেবে দেয় রাশিয়া যার পরিমাণ ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত