প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাংসল গবাধি পশুর জাত সৃষ্টিতে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রকল্প প্রক্রিয়াধিন

মতিনুজ্জামান মিটু : দেশে একটি টেকসই মাংসল জাতের গোবাধি পশুর জাত সৃষ্টিতে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রকল্প প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। দেশি ও ব্রাহমা জাতের সংকরায়নে টেকসই মাংস উৎপাদনকারি জাত সৃষ্টিতে প্রথম বারের মত নেয়া ‘বিফ ক্যাটেল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পটি চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হচ্ছে। প্রকল্পের পরিচালক এস এম এ সামাদ বলেন, মাংস উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশে এধরনের প্রকল্প এটাই প্রথম। প্রকল্পটি ২০১৩- ২০১৪ অর্থ বছরে শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৩৮ জেলার ৮০টি উপজেলায় এবং পরে ৪৮ জেলার ১২৫টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়। ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকার এই প্রকল্পের আওতায় আমেরিকা থেকে ৬০ হাজার মাত্রা ব্রাহমা পিউর জাতের ষাঁড়ের গভীর হিমায়িত সিমেন কিনে আনা হয়। যার ৯০ ভাগ মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত ১২৫ উপজেলার ২৫ হাজার খামারির ৫০,০০০ দেশি গাভিতে দেয়া হচ্ছে। বাকী ১০ ভাগ সিমেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের স্বাভাবিক কৃত্রিম প্রজনন কাজে বা এই প্রকল্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যবহৃত হবে।

ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার গাভির প্রজননে ১২০০০ বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। গর্ভবতী অবস্থায় রয়েছে ১৫,০০০ গাভি। প্রয়োজনের তাগিদে প্রকল্পটি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। দেশে চাহিদার তুলনায় দেশে মাংস উৎপাদন অনেক কম। এছাড়া জনসংখ্যর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে চাহিদা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বছরে জনপ্রতি ৪৩দশমিক ৮ কেজি হিসেবে দেশের মোট চাহিদা ৬৪০০ লাখ মেট্রিক টন। অথচ প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের হিসেবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে মাংসের উৎপাদন হয় মাত্র ৭১ লাখ মেট্রিক টন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে টেকসই মাংসল জাতের গরু সৃষ্টি করা জরুরী। মুরগীর মাংসের জন্য যেমন ব্রয়লার তেমনই গরুর মাংসের জন্য দরকার ব্রাহমা জাত।

এধরণের জাতের মাংস উৎপাদনক্ষমতা দেশি গরুর চেয়ে কয়েকগুন এবং দুধের ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর চেয়ে অনেক বেশি। প্রান্তিক খামারিরা ২/৩ বছরের একটি গরু থেকে প্রায় ২৭ মণ বা ১ মেট্রিক টন মাংস পেতে পারে। সঠিক মাত্রায় খাদ্য দিলে বাংলাদেশে ব্রাহমা জাতের বাছুরের ওজন দৈনিক ৯০০ থেকে ১২০০ গ্রাম পর্যন্ত বেড়ে থাকে। ইতোমধ্যে পাইলট আকারের বাস্তবায়িত কয়েকটি উপজেলায় দেশি গাভীর সঙ্গে ব্রাহমা জাতের সংকরায়ণে অধিক উৎপাদনক্ষম গরু প্রতিপালিত হচ্ছে। ব্রাহমা জাতের গরুর আদিনিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ। ভারতীয় ৩ ধরণের ( অংগল, ক্যাংক্রেজ ও গির) গরু থেকে ব্রাহমা জাত তৈরী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৮৫৪ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত ভারত থেকে উপমহাদেশের বস ইনডিকাস জাতের ২৬৬টি ষাঁড় এবং ২২টি গাভী নিয়ে জাত উন্নয়নের কাজ শুরু করে। জেনারেশনের পর জেনারেশন সংকরায়ণে প্রজেনী পারফরমেন্সের বিস্তারিত গবেষণা শেষে ব্রাহমা জাত সৃষ্টি করা হয়। এ জাতের গরুর বংশ পরম্পরায়ের মাংসের উৎপাদন গুণাবলী বজায় থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত