প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যথেষ্ট তথ্য নেই

তরিকুল ইসলাম : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শুরু করে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্ত আমরা যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছি সেটা প্রত্যাবসন চুক্তি অনুযায়ি কার্যকর নয়। মিয়ানমার শর্ত দিয়েছে যে, একটি পরিবারকে একটি ইউনিট ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা নিতে হবে উল্লেখ করে ঐ কর্মকর্তা বলেন, ইউএনএইচসিআর এরই মধ্যে পরিবারভিত্তিক তথ্যভা-ার তৈরি করেছে। তাদের থেকে তথ্য সহযোগিতা নিয়ে মিয়ানমারের কাছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হবে শিগগিরই। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিবার ভিত্তিক তথ্য সগ্রহ করেছে জাতিসংঘের এ সংস্থাটি। তারা এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৯টি পরিবারের ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গণনায় আনতে পেরেছে, যা মোট শরণার্থীর ৭২ শতাংশ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এখন বিস্তারিত তথ্য পেতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংস্থাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে একটি সমঝোতার খসড়াও দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের ১৬ তারিখ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া ‘ফিজিক্যাল এগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে দেবে। এ তথ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের অধিবাসী হওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে। আর ‘এগ্রিমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসনস ফ্রম রাখাইন স্টেট’-এর ‘৬ (এ)’ ধারাকে অনুসরণ করে সম্ভব হলে দুই মাসের মধ্যে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সত্যতা নিশ্চিত করবে মিয়ানমার।

ইউএনএইচসিআর সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২৮ জন রোহিঙ্গাকে গণনার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৯। আর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে আগত ৬ লাখ ৪০ হাজার ২৬৯ রোহিঙ্গার পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৮টি। তবে এ গণনায় কুতুপালং ও বালুখালিতে ইউএনএইচসিআরের আগের ক্যাম্পের ৩৩ হাজার ৫৩৮ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশু ৫৪ শতাংশ এবং নারী ৫২ শতাংশ। এদের ৭০ শতাংশ মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনের মংডুর অধিবাসী। আর বাকিরা বুথিডং ও রাথেডংয়ের বাসিন্দা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত