প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শব্দ সন্ত্রাস’ বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: চরম পর্যায়ে পৌঁছানো ভয়াবহ শব্দদূষণকে ‘শব্দ সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর প্রতিকারে আইনের কঠোর বাস্তবায়নসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও চিকিৎসকরা।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘শব্দ দূষণ এখন জীবন-বিনাশী শব্দ সন্ত্রাস; গভীর সংকটে আমাদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য! সমাধানের উপায় কী?’ শীর্ষক আলোচনা সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট), ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ও সুন্দর জীবন।

সভায় বক্তারা বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে শব্দদূষণ এমন একটি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি এখন শব্দ সন্ত্রাস।

সপ্তাহখানেক আগে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শব্দ সন্ত্রাসীদের হাতে এক ভদ্রলোকের মৃত্যুর ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, শব্দদূষণ মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে বহু আগে।

রাজধানীর শব্দদূষণের মাত্রা বিষয়ে সভায় জানানো হয়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে শব্দদূষণের মাত্রা ৮০ ডেসিবেল থেকে ১১০ ডেসিবেল। কোনো কোনো স্থানে আরো বেশি। এই মাত্রা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে।

যানবাহনে উচ্চ মাত্রার হর্ন, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার, নির্মাণজনিত শব্দ, ইটভাঙার মেশিনের শব্দ ছাড়াও গায়ে হলুদ, বিয়ে, খৎনা, জন্মদিন, নববর্ষসহ নানা উপলক্ষে অতি উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার, উচ্চ শব্দে গান-বাজনার মাধ্যমে শব্দ সন্ত্রাস করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শব্দদূষণের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি কমে যাচ্ছে, রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে, হৃদরোগীর হৃদকম্প বাড়ছে, নতুন হৃদরোগী বাড়ছে, কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, হজমক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে, মাংস পেশীতে খিচুনি হয়, শিশুদের বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, গর্ভবতী নারীদের মৃত সন্তাস জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। সুতরাং, এই শব্দ সন্ত্রাস যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

দূষণ বন্ধে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নসহ আইন প্রয়োগকারী

সংস্থাকে মোবাইল টিম গঠন করে শব্দ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া, রাতে আবাসিক এলাকায় নির্মাণকাজসহ শব্দ সৃষ্টিকারী যে কোনো ধরনের কাজ বন্ধ রাখা, গাড়িতে উচ্চমাত্রার হর্ন না থাকে তা নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার না করা বিষয়ে চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতন করা, মাইকে পণ্য ও লটারি বিক্রি বন্ধ করা, জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা বাড়ানো, সরকারি উদ্যোগ হর্নবিহীন দিবস পালনসহ ১৩ দফা দাবি জানানো হয়।

বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম আবু সাঈদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানুল হক বুলবুল, শব্দদূষণ বিষয়ক গবেষক এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের উপ-ব্যবস্থাপক অমিত রঞ্জন দে, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন।

সূত্র: বাংলানিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত