প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রত্যাবাসন নিয়ে নানা ধরণের খবর ছড়াচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে

সজিব খান: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানামরে ফেরত পাঠানো। তবে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পূর্বে ৬ থেকে ৮টি শর্ত পূরণের দাবি নিয়ে গত দুই মাসে একাধিকবার বিক্ষোভ করেছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া প্রত্যাবাসনকে ঘিরে বর্তমানে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে জনমত গঠনেরও চেষ্টা চলছে।

রোহিঙ্গারা যেসব দাবি তুলেছেন সেগুলো হচ্ছে, রোহিঙ্গা পরিচয়ে নাগরিকত্ব প্রদান, নিজস্ব জমি বসত ভিটা ফেরত পাওয়া, মিয়ানমারে অন্যান্য গোষ্ঠীর মতো সমান মর্যাদা নিশ্চিত করাসহ তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হত্যা ধর্ষণের ন্যায্য বিচার।

এছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধি নিযুক্ত করার পাশাপশি নিরাপত্তার জন্য রাখাইনে জাতিসংঘের অধীনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি তুলছেন রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের জোবেদা খাতুন বলছিলেন, “অনেক কষ্ট করে আমরা এসেছি। এখন আর যেতে চাই না। আমাদের দাবি পূরণ করতে হবে। কুতুপালং লাম্বাসিয়ার রকিমা এবং সুরত আলমেরও স্পষ্ট বক্তব্য এখন তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত নন।

গত ১৯ জানুয়ারি কুতুপালংয়ে লিখিত ৬ দফা দাবিতে যারা মানবন্ধন করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় পঞ্চাশোর্ধ আব্দুল্লাহ। মানবন্ধনে ব্যবহৃত ব্যানারটিও তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের একজন তাকে এটি দিয়েছে জানালেও এর পেছনে কারা সেটি তিনি বলতে পারেননি।

৬ দফা দাবিতে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অংশের মানবন্ধন ও তাদের মধ্যকার আলোচনার খবর জানেন পুরোনো রোহিঙ্গা জাফর আলম। ক্যাম্পে লিফলেট ছড়ানো এমনকি ছাপানো ফরমে স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনাও তার নজরে এসেছে। কিন্তু এসবের নেপথ্যে ‘আরাকান রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস সোসাইটি’ নামে অনানুষ্ঠানিক একটি সংগঠন গড়ে ওঠার যে খবর বেরিয়েছে সেটি তিনি জানেন না।

জাফর আলম বলেন, “এখানে মায়ানমারে যাবে না এরকম বিভিন্ন ধরনের দাবি আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। নয়াপাড়া গেলে দেখবেন দশ দফা দাবি, বালুখালী দেখবেন আটদফা আবার কুতুপালংয়ে দেখবেন ছয়দফা দাবি দিচ্ছে। তাদেরকে (সাধারণ রোহিঙ্গা) ভুল মোটিভেশন দেয়া হচ্ছে। স্বঘোষিত কমিটিগুলোই হয়তো ভুল মোটিভেশন দিচ্ছে।”

ক্যাম্পে ঘুরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, রোহিঙ্গারা নানা মাধ্যমে প্রত্যাবাসন বিষয়ে খবর পাচ্ছেন। ফেরত যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বৈঠক এবং নিয়মিত আলোচনাও হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে গণ্যমান্য বয়োজ্যৈষ্ঠ এক রোহিঙ্গা মুয়াজ্জিন বলেন, ” সবাইকে আমরা বুঝাচ্ছি। ব্লকে ব্লকে গিয়ে বুঝাই। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করলে আমরা যাব। আমাদের দেশের জন্য আমাদের মায়া আছে। আমাদের যেতেও হবে। বার বার আমরা এই কষ্ট ভোগ করতে চাই না।”

রোহিঙ্গাদের বক্তব্য এবং কার্যক্রমে অনেকটা পরিষ্কার যে তারা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বিভিন্ন দাবিতে সংগঠিত হতে চাইছেন। সাধারণ রোহিঙ্গাদের অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে স্বেচ্ছায় ফেরার আগে তাদের দাবি কী হবে এবং তারা আসলে কী চান।

কুতুপালং ক্যাম্পের মাওলানা আনোয়ার সাদিক বলেন, “আমরা বোঝাচ্ছি যে রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র না দিলে তোমরা যাবা না। তোমাদের কাছে জানতে চাইলে বলবে আমরা রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র ছাড়া কোনভাবেই যাব না। সরকার যে চুক্তি করবে করুক। আমার বাংলাদেশে মাটি খেয়ে থাকলেও বাচঁবো নয়তো মরবো। একথা সারা দুনিয়া জানুক।”

কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল বলেন, “একটা গ্রুপ চেষ্টা করছে প্রত্যাবাসন বিষয়টিকে অন্যদিকে মোড় দেয়ার জন্য। কিন্তু এ জিনিসটা যেন না হয় সেজন্য আমরা তৎপর আছি। রোহিঙ্গারা কিন্তু সংগঠিত না। অনেকেই চেষ্টা করছে এদেরকে ভুলপথে ধাবিত করার জন্য। দেখবেন হয়তো নেটের মাধ্যমে অনেক কিছু ভাইরাল হয়ে যায়। যেটার কিন্তু সত্যতা নাই। আমরা চেষ্টা করছি কোনোরকম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য যেন প্রচার না পায়।”

এদিকে বাস্তবতা হলো কক্সাবাজারে ত্রাণ শিবিরে থাকা বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই এখনো প্রত্যাবাসন নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের অক্টোবর এবং ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন অন্তত ৭ লাখ ৮০ হাজার। তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্যই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

সর্বাধিক পঠিত