প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩ বছর পর গতি পাচ্ছে সার্কুলার রেল

ডেস্ক রিপোর্ট : যানজট নিরসনে ঢাকার চারপাশে সার্কুলার রেল (বৃত্তাকার রেলপথ) নির্মাণ প্রকল্পটি পরিকল্পনাতেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এ সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়েছে ২০১৪ সালে। এরপর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো গত তিন বছরেও এগোয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার ‘সমীক্ষা প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশন। এতে করে প্রকল্পের জন্য এ মাসেই পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে। আগামী মাসে শুরু হবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। রেলপত্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে সমীক্ষার কাজ শেষ হবে আট থেকে নয় মাসে। যদিও এক বছর ৯ মাস সমীক্ষার জন্য সময় বরাদ্দ আছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় চাইছে নির্ধারিত সময়ের আগেই সমীক্ষার কাজ শেষ করতে। সমীক্ষা শেষে ঢাকার চারপাশে রেলপথ নির্মাণে ব্যয়ের হিসাব ও ডিজাইন দেয়া হবে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে। এরপর সমীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব তৈরি করে একনেকে ডিপিপি পাঠাবে মন্ত্রণালয়। একনেক ডিপিপি অনুমোদন করলে শুরু হবে ঢাকার চারপাশের এলিভেটেড সার্কুলার রেল নির্মাণের কাজ। নির্মাণ কাজ শুরু হতে কতো সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সমীক্ষা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আমরা তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ডিপিপি ( প্রকল্প পরিকল্পনা) তৈরি করে একনেকে জমা দিবো। একনেক আমাদের ডিপিপি অনুমোদন দিলে পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগ হবে। এরপর শুরু হবে নির্মাণ কাজ। এতে বছর দেড়েক সময় লাগতে পারে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের চারদিকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে ২০১৪ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। সেই প্রকল্প শুরু করার জন্য একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের জন্য ঢাকার চারিদিকে বৃত্তাকার রেলপথ তৈরী করা হবে। রেলপথটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের তারাবো সেতু এলাকা থেকে শুরু হয়ে ইস্টার্ন বাইপাস, আবদুল্লাপুর, ডিএনডি বাঁধ, লালবাগ, পোস্তগোলা, কদমতলী হয়ে আবার তারাবো গিয়ে শেষ হবে। লেভেল ক্রসিংয়ের ঝামেলা এড়াতে পুরো রেলপথটি হবে এলিভেটেড (উড়ালপথে)। আর বৃত্তাকার এ রেলপথে স্টেশন থাকবে ৪০টি। ট্রেন চলবে স্ট্যান্ডার্ড গেজ ডাবল লাইনে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার (ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন)। এজন্য ছয় বগিবিশিষ্ট ৩০ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) কেনা হবে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৫ মিনিট পর পর দুই দিক থেকেই চলবে। আর সার্কুলার রেলপথের টিকিট ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে স্মার্ট কার্ড। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারকে মাথায় রেখেই সার্কুলার রেলপথ তৈরী করা হবে। একই সাথে সার্কুলার রেলপথ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবসতিপূর্ণ স্থানগুলোর কাছাকাছি থাকবে। যাতে করে ওই সব এলাকা থেকে মানুষ সহজেই সার্কুলার ট্রেনে চড়ে গন্তব্যে যেতে পারে। প্রতি ৫ মিনিট পর পর সার্কুলার ট্রেন চলবে বলে এতে সারাদিন বহু যাত্রী পরিবহন করা যাবে। সার্কুলার ট্রেনে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে আধা ঘণ্টারও কম সময় লাগবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী, সার্কুলার রেল প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ২০১৫ সালের ২৯ জুন পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সে বছরের ৪ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অর্থায়ন প্রক্রিয়াকরণে অনুসৃতব্য পদ্ধতি’ শীর্ষক সভায় চীনা অর্থায়নে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৮ মে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই বছরের ২ জুন রেলওয়ের এই অনুরোধ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত বছরের ২ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ও ১৮ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সূত্র : ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত