প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধূপখোলা মাঠ ও সড়কে দখলদারদের থাবা

রাজধানীর অন্যতম পরিচিত মাঠ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধূপখোলা মাঠ। এলাকবাসীর খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত এই মাঠও রক্ষা পায়নি দখলদারদের থাবা থেকে। উল্টো দিন-দিন বাড়ছে দখলের পরিধি। তিনটি খেলার মাঠের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশাল মাঠের একটিতে গড়ে উঠেছে রিক্সা-ভ্যানের গ্যারেজ ও অসংখ্য দোকানপাট। অন্যদিকে মাঠের ঠিক বাইরেই বড় রাস্তার ওপর গড়ে উঠেছে বিশাল কাঁচাবাজার ও অবৈধ দোকনপাট। সবখানেই ক্ষমতাসীনদের প্রভাব এই ওয়ার্ডে। পকেট ভাড়ী হচ্ছে একশ্রেণির নেতাদের। আর সড়কে চলাচল বন্ধ এলাকাবাসীর। দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ, ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ ও একটি স্থানীয় খেলার মাঠের সমন্বয়ে গঠিত এই ধূপখোলা মাঠ। সরেজমিনে মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে আলাদা করে সীমানা থাকায় রক্ষা পেয়েছে মাঠটি; কিন্তু ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠের অবস্থা করুণ; সংস্কার প্রয়োজন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা স্থানীয় খেলার মাঠটি। মাঠের এই অংশটি উন্মুক্ত থাকায় একদল সুযোগসন্ধানী গড়ে তুলেছে অবৈধ দোকানপাট। পাশেই সম্পূর্র্ণ মাঠ দখল করে আছে রিক্সাগ্যারেজ। একধারে বাঁধা রয়েছে বেপারিদের গরু। ভাসমান হকারবাণিজ্যও সরব মাঠজুড়ে। আর সব কিছুতে মদদ দিচ্ছেন সরকারদলীয় স্থানীয় কিছু নেতা। ডিস্টিলারি রোডের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রথম দিকে অল্প ছিল। এখন অনেক দোকানপাট। নাম বলা যাবে না ভাই। তবে ভাড়া তোলা হয় মাঠে। আরও দোকান করার পাঁয়তারা করছে তারা।

এদিকে এলাকার দুটি বড় রাস্তা আস্ত গিলে ফেলেছে ধূপখোলা কাঁচাবাজার। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই বাজার যেন পরিণত হয়েছে অঘোষিত বৈধ বাজারে। কারো খেয়ালই নেই যে, বাজারের তলে আছে এলাকার যাতায়াতের বড় দুটি সড়ক। সরেজমিনে দেখা যায়, কমিউনিটি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে স্থানীয় খেলার মাঠের গেট পর্যন্ত বিস্তৃত এই কাঁচাবাজার। বাজার বাড়তে বাড়তে চলে যাচ্ছে অন্য রাস্তা পর্যন্ত। অন্যদিকে বাজারের দেখাদেখি গড়ে উঠেছে অগণিত অবৈধ দোকানপাট। এলাকাবাসীর চলাচল বর্তমানে বন্ধ এই দুটি সড়কে। আড়লে বাজার পরিচালনা কমিটি-সমিতির নামে ভাড়াসহ চাঁদা তুলে পকেট গরম করছেন অনেকেই। এই ভাড়াকে ‘খাজনা’ বলা হয় বলে জানান বাজারের এক দোকানদার। আরেক দোকানদার বলেন, নিয়মিত এই টাকা দিতে হয় আমাদের। তারা এই বাজারের মালিক তাই।
এদিকে বাজারের বাড়তি চাপে ওয়ার্ডের এই অংশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বর্তমানে বেহাল। সরেজমিনে দেখা গেছে, কমিউনিটি সেন্টার পার হলেই ড্রেন উপচে পানিতে সয়লাব চারপাশ। মাছের বাজারের ময়লা ও বর্জ্য-পানির অতিরিক্ত চাপ গিয়ে পড়ছে পাশের ডিস্ট্রিলারি রোডের বাসাবাড়ির ড্রেনেও। সবকটি ড্রেন ও নালা বন্ধ এখানে। মাছের আষ্টে ও বাজারের ময়লা চলে আসছে অলিগলিতে আর বাজার থাকায় ১১৪, ১১৬ ডিস্ট্রিলারি রোডের মতো আরও কয়েকটি রোডেও লেগে থাকে যানজট। এ নিয়ে এলাকাবাসীর ভোগান্তি দীর্ঘদিনের।
ওয়ার্ডের আরেক অবৈধ স্থাপনা রেলওয়ে বস্তি। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিন-দিন বেড়ে চলেছে বস্তির পরিধি। ভাড়া তুলে চলছে বস্তিবাণিজ্য। বস্তির অসংখ্য ঘিঞ্জি অলিগলিতে মাদকবাণিজ্যও সরগরম সেখানে।

ডিস্ট্রিলারি রোড, দীন নাথ রোড, ক্যাশব ব্যানার্জি রোড, শশী ভূষণ চ্যাটার্জি লেন, রজনী চৌধুরী রোড, সাবেক সরাফতগঞ্জ লেন, সত্যেন্দ্র কুমার দাস রোড, নামাপাড়া, সাধনা রোডসহ আরও কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত দক্ষিণের এই ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে ভোটার ৩০ হাজার ও জনসংখ্যা লক্ষাধিক।

ওয়ার্ডের স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাও নাজুক। শুকনো মৌসুমেও অনেক যায়গায় ড্রেন উপচে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। নামপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে আরও করুণ দশা হয়। এই নামপাড়াতেই জমে কোমরসমান পানি। এ ছাড়া ঘুট্টিঘর, দীন নাথ সেন রোডেও জমে অনেক পানি।

পানি ও গ্যাস নিয়ে কষ্টে আছেন এলাকাবাসী। এলাকায় রয়েছে ৫টি পাম্প। পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা নেই। তবে মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী পানি। তাই পাম্প থেকে পানি নিয়ে চলতে হয় প্রায়ই। অন্যদিকে গ্যাসের সমস্যা প্রকট এলাকায়। দীন নাথ সেন রোড, রজনী চৌধুরী রোড ও সাবেক সরাফতগঞ্জে গ্যাসের সমস্যা অনেক। ডিস্ট্রিলারি রোডের দুটি জায়গায় ও দয়াগঞ্জ চার রাস্তার মোড়ে দেখা গেছে আবর্জনার পাহাড়।দৈনিক আমাদের সময়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত