প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীত ভরা মৌসুম, তবুও সবজির দাম কমার লক্ষণ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট : শীতের ভরা মৌসুম। গ্রামে-গঞ্জে হরেক-রকম সবজি। দামও কম। কিন্তু তা ঢাকায় এসে বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশিতে। বাজারে গিয়ে নাভিশ্বাসে ক্রেতা। শীত মৌসুমে এত দাম অতীতে কখনো হয়নি। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি, বন্যা, কুয়াশায় উৎপাদন কমেছে। রয়েছে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিও। তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে ঘটছে তুঘলকি কাণ্ড!

শীতের শুরুতেই অস্থির ছিল রাজধানীর সবজির বাজার। শেষের দিকেও চড়া দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য রাস্তার তীব্র যানজটকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। সবজির দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, আলুর দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ভরা মৌসুমে অন্যান্য সবজির দাম আছে ঠিক আগের মতোই। বেশির ভাগই কিনতে হচ্ছে গড় ৪০ টাকার ওপরে কেজিতে। এর ঠিক উল্টোটা বলছেন বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, অন্যান্য মালামালে দাম ঠিক থাকলেও আলুর দাম ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। এ কারণে তাদের রীতিমতো লোকসানে পড়তে হচ্ছে। গতকাল যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা এসব জানান। সরেজমিন তথ্যানুযায়ী, প্রতি কেজি বেগুনের পাইকারি দাম ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ১৫-২০, শিম ৪০-৪৫, মটরশুঁটি ৪৫-৫০, করলা ৪০, কাঁচা মরিচ ৫০-৫৫, শালগম ২৫-৩০, চিচিঙ্গা ৪০, পেঁপে ১২, বরবটি ৭০, নতুন আলুর কেজি ২০, পুরনো আলু ১৪, গত সপ্তাহে নতুন আলুর দাম ছিল ২৫ আর পুরনো আলু ১৮-২০; লাউ প্রতি পিস ৪০, ফুলকপি ৩০, বাঁধাকপি ২০; কলম লেবু প্রতি হালি ১৫, এলাচ লেবু ৩০; মিষ্টিকুমড়া প্রতি ফালি ৩০ টাকা। কাঁচকলার হালি ১০ টাকা। এ বাজারে ২০-২৫টি সবজির আড়ত আছে। আরও আছে প্রায় ৪০টি সবজির পাইকারি দোকান। আশপাশে খুচরা বিক্রির দোকান রয়েছে ৩০-৪০টি।

খুচরা বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে এখানে বরবটির দাম কেজিপ্রতি ৮০, গাজর ২৫, কাঁচা মরিচ ৬০-৬৫, করলা ৫০, বাঁধাকপি ৩০, শিম ৫০-৬০, বেগুন ৪৫-৫০, শালগম ৪০, পেঁপে ১৫-১৮; লাউ প্রতিপিস ৬০, ফুলকপি ৪০ ও মিষ্টিকুমড়ার ফালি ৩৫ টাকা।

সোহাগ নামে শনিরআখড়ার এক বাসিন্দা এই প্রতিবেদককে জানান, পাইকারির চেয়ে খুচরা বাজারে প্রতিটি পণ্য কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশিতে কিনতে হচ্ছে। মাইজভাণ্ডারি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবদুল মালেক সরকার জানান, অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট থাকে। কিন্তু সবজির ক্ষেত্রে তা হয় না। সবজির দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ হলো যানজট। এতে ট্রাকের মধ্যেই অনেক মাল নষ্ট হয়ে যায়। নিত্যপণ্যের মধ্যে পিয়াজ, রসুন ও আদায় কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। আমদানি করা পিয়াজের দাম প্রতি কেজি ৫৪, দেশি পিয়াজ ৪০-৫০, আদা ৫০-৬০, আমদানি করা রসুন ৭০ ও দেশি রসুন ৪০ টাকা। লৌহজং বাণিজ্যালয়ের মালিক আবদুর রশিদ জানান, আমদানি কম থাকায় এসব পণ্যের দাম গত সপ্তাহে একটু বেশি ছিল। তবে এ সপ্তাহে আরও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

সবজির জন্য বিখ্যাত নরসিংদীর পাইকারি বাজার থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারেও সবজি দিগুণ-তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার অতি সন্নিকটে নরসিংদীতে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ টাকায়। সেই ফুলকপি ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। একইভাবে অন্যসব সবজিতেও বেশ ফারাক নরসিংদী ও কারওয়ান বাজারের পাইকারিতে। ক্রেতারা বলছেন, ঢাকা থেকে নরসিংদীর দূরত্ব খুব একটা বেশি নয়। তারপরও সবজির দাম কেন এত বেশি তা বোধগম্য নয়। শীতের ভরা মৌসুমে যদি এত চড়া দামে সবজি কিনতে হয়, তাহলে সারা বছরই বাজার আরও লাগামহীন হয়ে যাবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর মাটি পুষ্টি গুণে ভরপুর হওয়ায় এ বছর জেলায় সবজির অভাবনীয় ফলন এসেছে। উৎপাদন ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। চলতি বছর কৃষিবিভাগ শীতকালীন সবজি উৎপাদন ৮ হাজার ৯২২ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ২৪৭৫ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। লাউ আবাদ হয়েছে ১১২৫ হেক্টর জমিতে, বেগুন আবাদ হয়েছে ৭৭৯ হেক্টর জমিতে, ফুল কপি আবাদ হয়েছে ৬১০ হেক্টর জমিতে,বাধা কপি আবাদ হয়েছে ১৯৩ হেক্টর জমিতে, টমেটো আবাদ হয়েছে ৪৪০ হেক্টর জমিতে, উচ্ছে আবাধ হয়েছে ৫৬৫ হেক্টর ও মিষ্টি কুমড়া আবাদ হয়েছে ২৮৫ হেক্টর জমিতে, বরবটি ১১৯ হেক্টর, শশা ৯৪, ডাটা ৪২২ হেক্টর, মূলা ৫৪৮ হেক্টর, পালংশাক ১০৭ হেক্টর, লাল শাক ৪৯৯, পেঁপে ১৬৭ হেক্টর। নরসিংদীর শিবপুরের পালপাড়া পাইকারি বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজিতে বাজার সয়লাব।  রাজধানী কাওরানবাজার, যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার, কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সবজি ক্রয় করছেন। পাইকারদের পদচারণায় মুখরিত বাজারের অলিগলি। কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করে স্তূপ দিয়ে রাখা হচ্ছে। সেই সবজি প্যাকেটজাত করে টঞ্চাকে তোলা হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মান ভেদে শিম বিক্রি করা হচ্ছে ১০টাকা কেজি থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে। আকার ভেদে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৮টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। ছোট আকারের একটি বাঁধা কপি ৮টাকায় বিক্রি হলেও বড় সাইজের বাধা কপি বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। লাউ গড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। আলু মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা ধরে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকা কেজি। মূলা কেজি ১০টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। আকার ভেদে একটি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ধনে পাতা ২৫ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কাওরানবাজার থেকে আসা সবজি বেপারি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২৫ টাকা কেজি দরে শিম কেনা হয়েছে। গত বছর এই সময় শিম কিনেছিলাম ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। বড় সাইজের একটি ফুলকপি কেনা হচ্ছে ২৫ টাকায়। যা গতবার সর্বোচ্চ কিনেছি ১২ টাকায়। ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত শীতে সবজির ফলন কম হওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। শিবপুর কৃষি অধিদফতরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও ঘনকুয়াশার কারণে বেশকিছু কৃষকের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দ্বিতীয় দফায় সবজি আবাদ করতে হয়েছে। তারপরও ফলন ভালো হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত