প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সু চি মাইট হ্যাভ হিট মি: সাবেক মার্কিন কূটনীতিক

ডেস্ক রিপোর্ট : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার গঠিত আন্তর্জাতিক পরামর্শক বোর্ড থেকে সোমবার (২২ জানুয়ারি) পদত্যাগ করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি গঠিত এই বোর্ডকে সরকারের পক্ষের ‘চিয়ারলিডিং স্কোয়াড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, মিয়ানমারে নেত্রীর ‘নৈতিক নেতৃত্বের অভাব’ রয়েছে। উপদেষ্টা বোর্ডের বৈঠকে সু চি এমনই অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছিলেন যে, ওই সময় কাছাকাছি থাকলে হয়তো তিনি আমাকে মেরেই বসতেন  (শি মাইট হ্যাভ হিট মি)।  বোর্ড থেকে পদত্যাগ করার পর বুধবার (২৪ জানুয়ারি)  টেলিফোনে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি এসব কথা বলেন।

সু চির দীর্ঘদিনের বন্ধু বলে পরিচিত সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, তার (সু চি) মধ্যে ক্ষমতার দম্ভ তৈরি হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরেই তাকে চিনি। কিন্তু তিনি কোনও খারাপ খবর শুনতে মোটেই রাজি নন। আমিও কোনও ধরনের চোখে ধুলা দেওয়ার কাজের অংশ হতে চাই না।

২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মিয়ানমার গঠিত আন্তর্জাতিক পরামর্শক বোর্ডের সভার কথা উল্লেখ করে রিচার্ডসন বলেন, বৈঠকে আমি যখন রয়টার্সের আটক দুই সাংবাদিকের বিষয়টি তুলে ধরি, তখনই সু চি ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

সাবেক মার্কিন দূত বলেন,  সু চির মুখ তখন কাঁপছিল। তিনি এতটাই অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছিলেন যে, আমি যদি তার আরেকটু কাছে থাকতাম, তাহলে তিনি হয়তো আমাকে মেরেই বসতেন (শি মাইট হ্যাভ হিট মি)।

রাখাইনের অস্থিতিশীলতা নিরসনে সু চি বেশ কয়েকটি কমিশন, প্যানেল ও বোর্ড গঠন করেছেন। এগুলোর একটি হচ্ছে এই পরামর্শক বোর্ড। মোট দশ সদস্যের এই বোর্ডের পাঁচ জন ছিলেন বিদেশি। তাদের একজন ছিলেন রিচার্ডসন। এই বোর্ডটি মূলত কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নের জন্য গঠন করা হয়েছে বলে মিয়ানমার সরকারের দাবি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে জাতিসংঘে দায়িত্বপালন করেছেন রিচার্ডসন। কূটনৈতিক সংকট সমাধানকারী হিসেবে তার পরিচিতি গড়ে উঠেছে। সু চির সঙ্গে তার পরিচয় অনেক দিনের। গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৯০-র দশকে তিনি সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

এই বোর্ডে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে রিচার্ডসন বলেন, পরামর্শক বোর্ডে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আমার একটি লক্ষ্য ছিল, সত্যিকার ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সমাধান বের করা। কিন্তু আমি দেখলাম, এই বোর্ড সরকারের চিয়ারলিডিং স্কোয়াড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মিয়ানমারের নেত্রী ও বোর্ডের সদস্যরা যেভাবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে অবজ্ঞা করছিল, তা দেখে খুব অবাক হন বলে জানান সাবেক কূটনীতিক। তিনি নির্দিষ্টভাবে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুরাকিয়ার্ত সাথিরাথাইয়ের সমালোচনা করেন।

এক বিবৃতিতে রিচার্ডসন বলেন, বোর্ডের এজেন্ডায় রাখাইনের স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে অর্থপূর্ণ কোনও কর্মকাণ্ড রাখা হয়নি। অথচ এই মানুষগুলোকেই সেবা দেওয়ার কথা এই বোর্ডের।নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, বোর্ড থেকে রিচার্ডসনের পদত্যাগের কারণে এই পরামর্শক বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ, রিচার্ডসন ছিলেন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সু চির সমর্থকদের বিশ্ব নেতাদের একজন। তবে, ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠনের পর থেকেই সু চি তার আন্তর্জাতিক সমর্থকদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক সমর্থকের সঙ্গে সাক্ষাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সু চির এই সময়ের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের বেশ কয়েকজন রয়েছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। বর্তমানে সু চি নেপিদোতেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন।

রিচার্ডসন আরও বলেন, আমি আশা করি, এটা সু চির জন্য একটি সতর্ক সংকেত হবে। কিন্তু এটা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। আমার ধারণা, তিনি আমাকে শত্রুদের তালিকায় ফেলে দিয়েছেন। যে তালিকায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও নোবেলজয়ীরাও রয়েছেন। আমি আতঙ্কিত। তালিকাটি অনেক দীর্ঘ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সূত্র : বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত