প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ওরা ক্যান আমার পোলারে মাইরা ফালাইলো’

‘আল্লাহ্‌, আমার সোনার টুকরা পোলাটারে ক্যান তুমি কাইড়া নিলা। আমার পোলায় তো কোনও দোষ করে নাই। ওরা ক্যান আমার পোলারে মাইরা ফালাইলো।’ বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে বিলাপ করে কথাগুলো বলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বড়ালু এলাকার জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী পারুল বেগম।

গত ২২ জানুয়ারি শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী পারভেজ আহমেদ জয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পারভেজ আহমেদ জয় তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাকে হারিয়ে মা পারুল বেগম এখনও হাউমাউ করে বিলাপ করছেন।

পারুল বেগম কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘ইচ্ছা আছিলো, পোলায় লেহাপড়া শিখ্যা ভালা চাকরি করবো। সমিতিতে (মেঘনা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি) চাকরি কইরা সংসারের খরচের পাশাপাশি নিজের লেহাপড়ার খরচ চালাইতো। আবার ওর বাপের অষুধ, ছোট দুই ভাইয়ের লেহাপড়ার খরচও চালাইতো। অহন কেডা আমার সোয়ামীরে দেখবো, কেডায় ছোট দুই পোলার পড়ালেখার খরচ চালাইবো।’

কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বড়ালু গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দুই রুমের সেমি-পাকা ঘরের এককক্ষে বিছানায় শুয়ে রয়েছেন নিহত পারভেজ আহম্মেদ জয়ের বাবা জয়নাল আবেদীন। পাড়া-প্রতিবেশীরা জানান, গত ৬ বছর ধরে শয্যাশায়ী তিনি। কথা বলতে পারেন না, কেবল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন।

পাড়া-প্রতিবেশীরা জানান, জয়নাল আবেদীন ছেলে হারানোর ব্যাপারটা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু কিছু বলতে পারেন না।

পারভেজ আহমেদ জয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এপর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তিন জন হলেন – মেঘনা শ্রমজীবী সমবায় সমিতির ম্যানেজার সোহাগ মিয়া, একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাঠকর্মী মারমিন আক্তার। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের ২ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মেঘনা সমবায় শ্রমজীবী সমিতিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যা উপার্জন করতেন তা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন পারভেজ আহাম্মেদ জয়। মেঘনা সমবায় শ্রমজীবী সমিতির মালিকদের একজন পারভেজ আহাম্মেদ জয়ের মামা রুবেল মিয়া। রুবেল মিয়া ওই সমিতিতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। অন্য মালিকদের সঙ্গে রুবেল মিয়ার ঝামেলা হলে তিনি তার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে সমিতি থেকে বের হয়ে যান। সমিতিতে তার আরও ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে যায়। রুবেল মিয়া ওই টাকা তোলার দায়িত্ব দেন পারভেজ আহাম্মেদ জয়কে। রুবেল মিয়ার অবশিষ্ট টাকার হিসাব চাইলে সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পারভেজ আহাম্মেদ জয়ের বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, এ বিরোধের জেরে পারভেজ আহাম্মেদ জয়কে হত্যা করেন সোহাগ মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মারমিন আক্তার।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন জানান, গ্রেফতার তিন জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে সব তথ্য যাচাইবাছাই করছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত আছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।বাংলাট্রিবিউন থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত