প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রান করতে না পারায় শিশু খুন!

ডেস্ক রিপোর্ট : ক্রিকেট খেলায় রান করতে না পারায় প্রথম শ্রেণির ছাত্র নাহিনকে খুন করেছেন প্রতিবেশী মশিউর (১৮)। পরে লাশ বাড্ডার আফতাবনগরের একটি কাশবনে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার রাতে শিশু নাহিনের লাশ উদ্ধার এবং মশিউরকে গ্রেপ্তারের পর এ কথা জানান তিনি।

মশিউর জানান, সকালে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে প্রথম শ্রেণির ছাত্র নাহিন আহমেদ বাসার সামনে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করছিল। সেখান থেকে মশিউর ক্রিকেট খেলার কথা বলে নাহিনকে বসুন্ধরার একটি মাঠে নিয়ে যান। কিন্তু ব্যাটিং করতে গিয়ে শত চেষ্টার পরও বল ব্যাটে লাগাতে পারছিল না নাহিন। রান কেন করতে পারল নাÑ এটাই নাহিনের অপরাধ। তাই খেলা শেষে ক্ষোভে ইট দিয়ে নাহিনের মাথা থেঁতলে খুন করেন মশিউর। পরে লাশটি বাড্ডার আফতাবনগরের একটি কাশবনে ফেলে দেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই আবদুল করিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই মশিউরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করেই তিনি নাহিনকে হত্যা করেন।

এদিকে নিহত শিশু নাহিনের পরিবারের অভিযোগ, সাত বছর বয়সি এক শিশু বড়দের সঙ্গে ক্রিকেট খেলবেÑ এটা মানা যায় না। তাছাড়া মশিউর বসুন্ধরার মেহেদি মাঠের কথা বলছেন, যেটা মূলত রাস্তা। কাদের সঙ্গে খেলছিলেন, সেটাও বলছেন না। তাদের অভিযোগ, মশিউর অপহরণ কিংবা পাচার করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যাকা- ঘটিয়েছেন। নেপথ্যে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি তাদের।

নিহতের চাচা মোবারক হোসেন জানান, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নোয়াকান্দি গ্রামের মো. হিরণ মিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মেজো নাহিন। নাহিন পরিবারের সঙ্গে ভাটারার কুড়িল বিশ্বরোডের একটি বাসায় থাকত এবং শেরেবাংলা আইডিয়াল হাইস্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্কুল থেকে বাসায় ফেরে নাহিন। এরপর প্রতিবেশী মশিউর ক্রিকেট খেলার কথা বলে নাহিনকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর স্বজনরা তাকে না পেয়ে পাশের কয়েকটি মসজিদে মাইকিংও করেন। তবু তার কোনো সন্ধ্যান মিলছিল না। এক পর্যায়ে মশিউরের মা স্বজনদের জানান, নাহিনকে আমার ছেলে মশিউরের সঙ্গেই দেখেছি, ওর সঙ্গেই আছে।
মোবারক হোসেন আরও জানান, বিকালে মশিউর এলাকায় আসেন। তার পরনের প্যান্ট উল্টো করে পরা ছিল। এতে রক্তমাখা ছাপও দেখে সবার সন্দেহ হলে আটক করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি জানান, খেলার সময় আহত একজনকে ধরে গাড়িতে তুলে দেওয়ার সময় তার প্যান্টে রক্ত লেগেছে।
ভাটারা থানায় খবর দিলে পুলিশ মশিউরকে থানায় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি নাহিনকে খুন করার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার আফতাবনগর ৩নং সেক্টরের ৩৩নং প্লটের কাশবাগান থেকে নাহিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।
বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, নাহিনের মাথাসহ শরীরের অনেক জায়গায় ইট দিয়ে থেঁতলানো জখম রয়েছে। তাকে ইট দিয়ে থেঁতলে মারার কথা মশিউরও স্বীকার করেছেন। এ হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। সূত্র : আলোতিক বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত