প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যৌন কেলেঙ্কারিতে লন্ডনের প্রেসিডেন্স ক্লাবের ডিনার পার্টি

কামরুল আহসান : যৌন কেলাঙ্কারির কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য প্রেসিডেন্ট ক্লাব। শুধু পুরুষদের দ্বারা আয়োজিত এ ক্লাবটি অনুদান তোলার জন্য বছরে একবার বিশেষ ডিনারের আয়োজন করে।
গত বুধবার রাতে এরকম এক ডিনার পার্টিতে বিশেষ অতিদের স্বাগত জানানো ও তাদের পানভোজনে সহযোগিতা করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় একদল নারীকে। তাদের বলে দেয়া হয়, কালো খাটো স্কার্টের সঙ্গে কালো পেন্টি ম্যাচ করে পরে আসার জন্য। চার পৃষ্ঠার কাগজে তাদের সইও রেখে দেয়া হয় তা প্রকাশ না করার শর্তে। তাদের স্কার্ট এতোই ছোট ছিল যে, তাদের বুক ও পশ্চাৎদেশ অনেকখানি উদোম হয়ে ছিলো। এমনকি পার্টির ভেতরের কার্যকলাপে তারা হতভম্ব হয়ে যায়। পার্টিতে যাওয়া কয়েক নারী অভিযোগ করেন, সেখানে পেশাদার পতিতাদেরও উপস্থিতি ছিলো। কেউ কেউ এই অভিযোগ করেছে যে, তাদেরকে বিছানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আটিভি’র একদল সাংবাদিক ওই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় হতভম্ব হয়ে গেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা, হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স, মানবাধিকারকর্মী এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী সমাজ। কারণ, ডোরচেস্টার হোটেলে আয়োজিত প্রেসিডেন্ট ক্লাবের এ ডিনার পার্টিটি আয়োজন করা হয় শিক্ষা ও চিকিৎসায় অনুদান তোলার জন্য। তাই কোন শুভ কাজে এমন কান্ড কেউ মেনে নিতে পারছেনা।
অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা শিশু ও পরিবার মন্ত্রী নাজিম জাওয়াদি। তিনিও প্রচ-ভাবে সমালোচিত হয়েছেন। যদিও তিনি বলেছেন, আমি খুব অল্প সময় ওখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি নিজের চোখে এমন কিছু দেখিনি। তবে শুধু পুরুষদের দ্বারা আয়োজিত এরকম কোনো অনুষ্ঠানে আমি আর যাচ্ছি না।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক ডেভিড মিলারও বলেছেন, তিনি স্বচক্ষে এমন কিছু দেখেননি। তবে তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং বলেছেন, এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে।
বৃহস্পতিবার হাউজ অব কমন্সে বিষয়টি অত্যন্ত জোড়ালোভাবে উত্থাপন করছেন শিক্ষামন্ত্রী এ্যানি মিলটন। রাগতস্বরে তিনি বলেছেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না এটা একবিংশ শতাব্দী এবং আমাদের দেশে এখনো এরকম কা- হতে পারে!
ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা, চিকিৎসা এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী সমাজও। ইতোপূর্বে এ ক্লাব থেকে অনুদান নিয়েছে গ্রেট অরমোন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল এবং এভিলিনা লন্ডন শিশু হাসপাতাল। উভয় প্রতিষ্ঠানই তাদের নেয়া সব অনুদান ফিরিয়ে দেবে বলেছে। দাবি উঠেছে, প্রেসিডেন্স ক্লাবের ডিনার কার্যক্রম এবং এর মতো অন্যান্য পুরুষ পার্টিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার। বিবিসি, সিএনএন, গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, উইকিপিডিয়া

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত