প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাজা হতে পারে খালেদা ও তারেকের, উদ্বিগ্ন বিএনপি

মাছুম বিল্লাহ : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারকে রহমানসহ ছয় আসামীর সাজা হবে কি না- তা জানা যাবে ৮ ফেব্রুয়ারি। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান রায়ের এ মামলায় দিন ধার্য করে দিয়েছেন।

এ মামলায় মা ও ছেলের ‘সাজা হয়ে যেতে পারে’, এমন শঙ্কা আছে খোদ বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের ধারণা, শাস্তির মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করার একটি চেষ্টা করবে সরকার।

বিএনপির সর্বোচ্চ পদধারী এই দুই নেতার বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায় শেষ পর্যন্ত কি হয় তা সম্পূর্ণ আদালতের উপরই নির্ভর করছে। তবে মামলার চলমান কার্যক্রমের গতিপ্রকৃতি ও আলামত দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়ে যেতে পারে। এইক্ষেত্রে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দলটির ভেতরে-বাইরে মামলার রায় বেগম জিয়ার বিপক্ষে গেলে কি হবে বিএনপির? দলটির পরবর্তী কার্যক্রম কি হতে পারে?

এ বিষয়ে দলটির নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতাদের কথায়, ‘সরকার বেগম জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের’ চেষ্টা করছে। তবে এতে সফল হবে না সরকার। বিষয়টিকে তারা বিএনপির প্রতি সরকারের ‘থ্রেট’ হিসেবেই দেখছেন। অবশ্য সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলটি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলেও জানান বিএনপি নেতারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায় গেলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিএনপি। সেক্ষেত্রে আন্দোলন দমাতে কঠোর হবে সরকার। অবশ্য বিশ্লেষকরা এটাও বলছেন, মামলার রায় বিপক্ষে গেলেও উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন বেগম জিয়া। হাইকোর্ট, আপিল বিভাগ ও রিভিউসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো শেষ করে মামলার চূড়ান্ত রায় হতে হতে বছর পার হবে। অর্থাৎ নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ২০১৮ সালের বেশিরভাগ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ব্যস্ত রাখার একটা চেষ্টা আছে সরকারের।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ছাড়াও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৪৫টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২৭টি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, গ্রেনেড হামলা, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ফৌজদারি, রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি এবং দেওয়ানি মামলা ইত্যাদি।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা গ্রেনেড হামলার বিচার অনেকটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালেদা জিয়ার সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে এবং নির্বাচনের অযোগ্য বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিস্ম্ফোরক ও হত্যার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে।

বিএনপি নেতাদের মতে, দলের চেয়ারপারসন ও ভাইস চেয়ারম্যানের সাজা হলে নির্বাচনে তারা অযোগ্য হয়ে পড়লে বিএনপি সংকটে পড়বে । এ পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি দল ও জোটে ভাঙন ধরবে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনে অংশ নিবে বলে জানান তারা ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত