প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রীলংকার বন্দরে এবার হিস্যা চাইছে জাপান

হাসান :  চলতি মাসের শুরুর দিকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো শ্রীলংকায় যে সফরে যান, সেটা ছিল ১৫ বছরের মধ্যে শ্রীলংকায় কোন জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম সফর। কোনোর সফরের সময় শ্রীলংকার প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনসি) প্রকল্প নিয়ে চুক্তি হয় এবং সেটা সরকারের অনুমোদন পায়। সরকার সে সময় জানায় যে, ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশান ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণের জন্য জাপানের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এফএসআরইউ এবং এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প দুটোই হবে যৌথ প্রকল্প, জাপান ও ভারতের সাথে মিলে যেগুলোর বাস্তবায়ন করবে শ্রীলংকা পোর্ট অথরিটি। এলএনজি টার্মিনালটি নির্মিত হবে কলম্বো বন্দরের ভেতরে, যেটা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ততম বন্দর এবং এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃপরিবহন কেন্দ্র।

জাপানের সরকারী গণমাধ্যম এসএইচকেতে বলা হয়েছে, কোনোর সফর জাপান সরকারের বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে সহযোগিতা পরিকল্পনার অংশ। সফরকালে কলম্বো বন্দর পরিদর্শন করেন কোনো এবং জাপানি মিডিয়া সে সময় যথারীতি উল্লেখ করে যে, নৌ এলাকায় চীনের উপস্থিতি বাড়ার কারণে জাপান উদ্বিগ্ন। বন্দর সফরকালে কোনো সাংবাদিকদের বলেন, শ্রীলংকায় বন্দর উন্নয়নে চীন বেশি জড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের নির্মাণের সুযোগ অন্যান্য দেশের জন্যও খোলা থাকা উচিত। কোনোর বক্তব্যে চীনা-বেল্ট, চীনা প্রতিষ্ঠান-পরিচালিত হামবানতোতা বন্দরসহ শ্রীলংকার বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

কলম্বোতে বাছাই করা স্থানীয় কিছু সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি তোশিহিদে আন্দো বলেন, জাপান মনে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সকলের কল্যাণের জন্য ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে অবাধ ও মুক্ত জলসীমা গড়ে তুলতে হবে। পূর্বাঞ্চলের যে ত্রিণকোমালী বন্দরে উন্নয়নে জাপান আগ্রহ দেখিয়েছিল, সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও কোন জবাব দেননি তিনি।

কলম্বো ও ত্রিণকোমালীতে বিনিয়োগের ব্যাপারে জাপান ও ভারতের যে উদ্বেগমিশ্রিত আগ্রহ, তার উৎস হলো হামবানতোতা বন্দর নিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে শ্রীলংকার চুক্তি, যেখানে চীন একটা বড় অংশীদার। পূর্ব-পশ্চিম সমুদ্র পথে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরটির উপর থেকে শ্রীলংকার সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে তারা আশঙ্কা করছে যে, এটা চীনের সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে, যদিও তেমন কিছু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলংকা। গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গে টোকিওতে বলেছিলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে আমাদের বন্দরগুলোর উন্নয়ন হয়, এবং এগুলো যাতে বাণিজ্যিক কাজে স্বচ্ছতার সাথে ব্যবহৃত হয় এবং কারো জন্য কোন ধরনের সামরিক তৎপরতার কাজে ব্যবহৃত না হয়।”

চীনকে প্রতিপক্ষ মনে করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সাথে অনেক কৌশলগত স্বার্থ মিলে গেছে জাপানের। তিন দেশের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের সম্পর্কও তাই গড়ে উঠেছে। মালাবার নৌ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সাথে যোগ দিয়েছে জাপান। এবং তাদের মতোই একই সুরে সমুদ্র সীমাকে ইন্দো-প্রশান্ত হিসেবে উল্লেখ করছে জাপান, যেখানে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের সীমাকে বিলীণ করে দেয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, শ্রীলংকার বন্দর উন্নয়নে জাপানের আগ্রহকে হয়তো স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু এখানে ভারত অংশীদার হওয়ায় এবং কৌশলগত চিত্রপটে পরিবর্তনের কারণে চীনা প্রভাব মোকাবেলার জন্য এটা একটা বড় ধরনের ত্রিপক্ষীয় প্রকল্প হয়ে উঠতে যাচ্ছে যেন। এর অর্থ হলো শ্রীলংকা যদি এই বড় শক্তিগুলোর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাকে হয়তো ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হতে পারে, যদি কখনও চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় জাপানের ভূমিকা নিয়ে বছর দুয়েক আগে সাউথফ্রন্টে বিশ্লেষক ব্রায়ান কালান যেটা লিখেছিলেন, সেটাকেই প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। “প্রশ্ন হলো সামনের দশকগুলোতে জাপান কিভাবে তার নৌশক্তিকে ব্যবহার করবে। তারা কি নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এটাকে ব্যবহার করবে, নাকি এ অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেবে?” – দ্য ডিপ্লোম্যাট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত