প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে অর্থমন্ত্রী
বিদেশে অর্থ পাচারের খবর তথ্যভিত্তিক নয়

আসাদুজ্জামান সম্রাট : বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের খবর তথ্যভিত্তিক নয় দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বৃহস্পতিবার এমনটা দাবি করেছেন। এই দিনও বহুল আলোচিত ফারমার্স ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে তাকে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্প্ওি লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বর্তমান সময়ে প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যে দাবি করা হচ্ছে তা তথ্যভিত্তিক নয়।’

তবে তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিদেশে অর্থ পাচারের সনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোয় অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও ফাইন্যান্সিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট তৎপর হয়েছে। পারষ্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তারা বিদেশের কাউন্টারপার্টদের যোগাযোগ বাড়িয়েছে। সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও কানাডায় ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রয় বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থপাচার বিষয়ক বেশকিছু মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন ও দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) তদন্তাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের মাত্রা যাই হোক না কেন, পাচারের সম্ভাব্য উৎস্যগুলো বন্ধ করার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতি বা অন্যকোন অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপাওে সরকার সক্রিয় রয়েছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংসদ সেলিম উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংকে বর্তমানে তারল্য সঙ্কট বিদ্যমান থাকার ফলে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর পর হতে রেগুলেটরী ও প্রুডেনশিয়াল নিয়ম কানুন পরিপালনে অনিহা এবং পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকে।’

মন্ত্রী জানান, এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক পদক্ষেপ নিলেও সার্বিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে ক্রমাবনতি বিদ্যমান থাকে। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির দুর্বল আর্থিক অবস্থা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়লে আমানতকারীরা ব্যাংক হতে আমানত উঠিয়ে নিতে থাকে। যার ফলে তারল্য সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। ব্যাংকটির তারল্য সঙ্কটজনিত এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীন শৃংখলা পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারণ করে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিযোগের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন ফান্ড ও প্রতিষ্ঠানের পর্যায়ক্রমিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়টিও বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন করেছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেে ৫০০ কোটি টাকার সাব অর্ডিনেটড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের খেলাপী ঋণ পুনরুদ্ধারের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে আমানতকারীদের আস্থা অর্জনে তৎপর হওয়ার বিষয়ে নির্দেশনাও প্রদান করেছে সরকার।’

উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার ফারমার্স ব্যাংকসহ পুরো ব্যাংখ খাতের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হয় অর্থমন্ত্রীকে। আগের বৃহস্পতিবারও এক সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিলো। তার মাত্র দুই দিন আগে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতা, তুমুল হট্টগোল আর অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউটের মুখে সংসদে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনে আনিত বিলটি পাস হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত