প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুধ-মাংসে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জীবাণুর উপস্থিতি নিশ্চিতের সক্ষমতা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নেই

মতিনুজ্জামান মিটু : গুণমান সম্পন্ন প্রাণিজাত খাদ্যের উৎপাদন এবং মানুষ ও প্রাণিস্বাস্থ্য রয়েছে ভয়াবহ হুমকির মুখে। দেশে উৎপাদিত এবং আমদানি করা দুধ-মাংসে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জীবানু আছে কিনা তা নিশ্চিতের কোনো ব্যবস্থা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের নেই। নেই মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০, পশুখাদ্য বিধিমালা ২০১৩ এবং পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের সক্ষমতা।

অতিগুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থা এখনো অনেকটাই ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সরদারের মতো। তবে সাভারে প্রাণিসম্পদ মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপনের মধ্য দিয়ে অনেকটাই কেটে যাবে অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের এই সীমাবদ্ধতা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের ৬৬ কোটি ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকার অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন উপকরণ ও প্রাণিজাত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প। ২০১৬ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া প্রকল্পটির সব কাজ ২০১৯ সালের ৩০ শেষ হবে। সাভারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘অফিসার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কাছে ১দশমিক ৬৪ একর জায়গা জুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, প্রকল্পের ৬ তলা ভবনের ৩য় তলা ও ৪ তলা ভবনের ২য় তলার সাদের ঢালাই কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে বলে আমরা আশা করছি। এটিই হবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের বিএসএল-২( বায়ো সেফটি লেবেল-২) গবেষণাগার। গবেষণাগারটিকে পর্যায়ক্রমে আপগ্রেড করে বিএসএল-৩ এ পরিণত করা হবে। বিশ্বে সর্বোচ্চ বিএসএল-৪ ল্যাবেরেটরি আছে। আমাদের অবস্থার বিবেচনায় এখনই এখানে বিএসএল-৪ ল্যাবেরেটরি করার সুযাগ নেই। আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরির অভাবে আমরা আইনের বাস্তবায়ন এবং দুধ, মাংস ও প্রাণি খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারতাম না।

ঈদ-উল-আযহা বা অন্যকোন সময় উদ্যোগ নিয়েও প্রকৃত অর্থে প্রাণির নমুনা সংগ্রহ করে আমরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারিনি। দেশে স্টরয়েড হরমোনসহ নানা ধরনের হরমোন ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ এবং ব্রয়লার মুরগীতে অধিক পরিমাণ এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা তদারকিরও কোন সুযোগ বা ল্যাবরেটরি এখনো আমাদের নেই। তাই গরুসহ গবাধি পশুর মাংসে এবং মুরগীতে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা আমরা জানিনা। বহু বছর ধরে অস্ট্রেলিয়া বা অন্যান্য দেশে থেকে গুড়া দুধ আমদানী করে দেশে ব্যবহৃত হয়। ওই দুধে মেলামাইন বা ক্ষতিকর জীবাণু আছে কিনা তা নিশ্চিতের কোনো ব্যবস্থা এখনো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নেই। প্রাণির খাদ্য, ঔষধ ও ভ্যাকসিন এবং দুধ, ডিম ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকারি আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও অধিদপ্তরের নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত