প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাসাউফ কাকে বলে?

মুফতি আহমদ আবদুল্লাহ: তাসাউফ আরবি শব্দ। আভিধানিক অর্থ সুফিবাদ, আধ্যাত্মিকতা আধ্যাত্মবাদ। মুসলিম দর্শনে তাসাউফ সূফিবাদ নামে খ্যাত। বিশেষজ্ঞদের মতে সূফি শব্দটি সূফ শব্দ থেকে উৎপন্ন যার অর্থ পশম। পশমি বস্ত্র সরলতা ও আড়ম্বরতাহীনতার প্রতীক। রাসুল (সা.) ও তার সাহাবারা বিলাসিতার পরিবর্তে সাদাসিধা পোশাক পরিধান করতেন। তাই সাদাসিধা জীপন যাপনকারী ব্যক্তিরা মুসলিম দর্শনে সূফি নামে অভিহিত। আবার কারও মতে সূফি শব্দটি সুফ্ফা থেকে এসেছে। প্রিয়নবী (সা.)- এর সাহাবাদের মধ্যে একটি দল সামাজিক ও প্রতিক‚ল অবস্থার শিকার হয়ে আশ্রয় ও সম্বলহীন অবস্থায় মসজিদে নববীর উত্তর পাশে অবস্থান করতেন। রাসুল (সা.)- এর কাছে যে হাদিয়া আসতো, তা থেকে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন ও সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং সাদাসিধা জীবনযাপন করতেন। তাদেরকে আহলুস সুফ্ফা বলা হয়। আর আহলুস সুফ্ফা থেকেই সূফি এসেছে।

তাসাউফ বা সূফিবাদের পারিভাষিক বর্ণনায় শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আল আনসারি (রাহ.) বলেন, যে ইসলামের দ্বারা অনন্ত সৌভাগ্য লাভের উদ্দেশ্যে আত্মশুদ্ধি ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের প্রক্রিয়া এবং মানুষের জাহির ও বাতিন গঠন করা সম্বন্ধে অবগত হওয়া যায় তাকে ইলমে তাসাউফ বলা হয়। ইলমে শরীয়ত ও ইলমে মারেফাতকে অনেকে আলাদা করে দেখে, কিন্তু এ দুটি বিষয় অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

সবসময় ইবাদতে মগ্ন থাকার দরুণ ইলমে মারিফাত না তত্ত¡জ্ঞান আত্মার ওপর ইলহাম ও কাশফরূপে প্রকাশ পায়। যেমন রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে, তাকে এমন জ্ঞান দান করেন, যা পূর্বে তার অজানা ছিলো। যা সে আমল করে, তিনি তার ভেতর তাকে তাওফিক দেন, যে পর্যন্ত তার জন্য জান্নাত অবধারিত না হয়। আর যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, সে তার ইলমের ভেতর ঘুরতে থাকে। সে যা আমল করে, তার জন্য তিনি তাকে তাওফিক প্রদান করেন না, যে পর্যন্ত না জাহান্নাম তার জন্য নিশ্চিত হয়। রাসুল (সা.)- এর এ কথার সমর্থনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ইমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তিনি তোমাদেরকে ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি প্রদান করবেন। (সুরা আনফাল: ২৯)।

কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে, যার দ্বারা তাসাউফের সত্যতা প্রমাণিত হয়। তাছাড়া সাহাবায় কেরাম, হক্কানী আলেম ও আওলিয়াদের জীবন থেকে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, তাসাউফ সত্য। সুতরাং আমাদের কর্তব্য তাসাউফকে ইনকার না করা এবং জীবনকে ইলমে মারিফাত তথা কুসংস্কার ও বিদআতমুক্ত তাসাউফের আলোতে আলোকিত করার চেষ্টা করা। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন!
লেখক: শিক্ষক, বাইতুন নূর মাদরাসা ঢাকা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত