প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ঢাবি উপাচার্য নিজেকে ছাত্রলীগের অংশ  মনে করেন ’

আশিক রহমান : উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেছে আন্দোলনকারীরা, পুলিশ এসে উদ্ধার করবে। কিন্তু ছাত্রলীগ দিয়ে উদ্ধার, আন্দোলনকারীদের পেটানোর ঘটনাই তো বোঝায় বিশ্ববিদ্যালয়টি আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আফসান চৌধুরী।

তিনি বলেন, যারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেছিল অন্যায় করেছে। কিন্তু উপাচার্য হিসেবে তো তার অনেক পদ্ধতি-প্রক্রিয়া থাকা উচিত। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের দিয়ে পেটানো, তার কী করে ধারণা হলো সাধারণ মানুষের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে? এর ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়াতে চাইবে না। এই ঘটনা মানুষের মনে কতটা আঘাত লেগেছে তা হয়তো উপাচার্য সাহেব বুঝতে পারছেন না। ছাত্রলীগকে নিশ্চয় কেউ অনুমতি দিয়েছে বাড়াবাড়ির করার জন্য। যারা এই অনুমতিটা দিয়েছে তারাই বাড়াবাড়িটা করেছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন কথাবার্তা আর উপাচার্যের এই ব্যবহার মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি করবে। আমার মনে হয় শিক্ষাব্যবস্থা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া ভালো। আমাদের যোগ্য, দক্ষতার কোনোটাই নেই যে, একটা ভালো শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করার। সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের একটা আস্থা আছে। ঢাবি হয় সেনাবাহিনীর হাতে দিক, না হয় ছাত্রদের হাতে। ছাত্ররা অনেক ভালো চালাব। এই উপাচার্য রেখে কী লাভ যিনি নিজেকে সামলানোর জন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে ডাকেন। তিনি আর যাই হোন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নন, দলের।

আফসান চৌধুরী বলেন, ঢাবির উপাচার্য নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী মনে করেন, ছাত্রলীগের অংশ মনে করেন। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে একজন শিক্ষককে না রেখে, যদি ছাত্ররা এতটাই সবল, তাহলে কোনো ছাত্রকেই উপাচার্য করে দিলে হয়! এতে শান্তি হবে বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না বলে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় বলে দিলেই হয়। যখন ছাত্রদল ক্ষমতায় আসবে, তখন ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়! এখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে উপাচার্যকে নির্ভর করতে হয় একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য উপরে, তাহলে কী করে এটা বিশ্ববিদ্যালয় বলবেন?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত