প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব কার

ডেস্ক রিপোর্ট : ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সচিত্র প্রতিবেদন বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত মঙ্গলবার ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা করেছিল ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। তাদের ভূমিকা ছিল ভিসি’র আইন রক্ষা বাহিনীর মতই। এর জের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখা গিয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশিতা ইকবাল নদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব হলের ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি বেনজির হোসেইন নিশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লাকে ভিসি অফিসের সামনে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর চড়াও হতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা থেকে মনে হচ্ছে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়টির নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা সংস্থার দায়িত্ব নিয়েছে।

সাধারণত প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যবৃন্দ অথবা পুলিশ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরবতা দেখে মনে হচ্ছে তারা এ দায়িত্ব ছাত্রলীগের হাতেই তুলে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুটি ঘটনায় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে ডাকেনি। ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দমন করেছে, ছাত্রীদের হয়রানি করেছে, মারধর করেছে আন্দোলনকারীদের।

গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের বেশ কয়েক’শ নেতাকর্মী ছাড়াও বহিরাগতরা বাম ধারার আন্দোলনরত ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা তাদের দাবি আদায়ে ঘেরাও করে রেখেছিল। তাদের ওপর হামলার পর অন্তত অর্ধশত ছাত্রছাত্রী ও দুই জন সাংবাদিক আহত হয়। চার দফা দাবির মধ্যে একটি ছিল দিন কয়েক আগে ছাত্রীদের যারা হয়রানি করেছে তাদের বিচার।

গত ১৫ জানুয়ারি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের হয়রানি করে, আন্দোলনের এক সমন্বয়কারীকে মারধর করে। ওই দিন তারা সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার বিষয়টি বাতিলের দাবি জানায়। প্রক্টোর অফিসের একটি সূত্র জানায় দুটি দিনেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে ডাকা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রলীগ তা অস্বীকার করেছে।
গত মঙ্গলবার শতাধিক ছাত্রছাত্রী ও বামসংগঠনের নেতাকর্মী তিনটি গেটের তালা ভেঙ্গে ভিসি অফিস ঘেরাও করে। তারা রেজিস্ট্রি বিল্ডিং’এ যাওয়ার জন্যে এসব গেটের তালা ভাঙ্গে। ভিসি তখন একটি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাস জানান, গেটগুলো সাধারণত খোলাই থাকে। আমরা ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করে দাবি জানাতে যাচ্ছিলাম। গেটে তালা দেখে আমরা তা ভেঙ্গে দাবি উপস্থাপন করতে যাই। কিন্তু এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান এ হামলার নেতৃত্ব দেন। তারা লোহার রড নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিল, ঘুষি, লাথি, চড় দিত থাকে তারা, প্রত্যক্ষদর্শী ও টেলিভিশনের ফুটেজে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।

তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বহিরাগত, ছাত্রদল, ছাত্র শিবির ও বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ভিসি অফিস ঘেরাও ও আক্রমণের ঘটনা ঘটায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে বহিরাগতরা এধরনের ঘটনার জন্যে দায়ী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত