প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঋণে সুদ বেশি নেয়ায় ৮ ব্যাংককে সতর্ক বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট : আমানতের চেয়ে ঋণে সুদ বেশি নেয়ায় আট ব্যাংককে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হল- বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, উরি ব্যাংক, এইচএসবিসি, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং দেশি ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক। এর মধ্যে সুদসীমা লঙ্ঘনে শীর্ষে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার নির্দেশনা দিয়ে আসছে। কিন্তু তা মানছে না বেশ কয়েকটি ব্যাংক। আটটি ব্যাংক আমানতকারীদের ঠকিয়ে ঋণের সুদ বেশি নিয়েছে। এসব ব্যাংক আমানতকারীদের মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ সুদ দিলেও ঋণের সুদ নিয়েছে সর্বোচ্চ সাড়ে আট শতাংশ পর্যন্ত। যদিও মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালার আলোকে ঋণ ও আমানতে সুদহার নির্ধারণ করতে পারে। তবে মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণœ হলে তখন লাগাম টেনে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৬ জানুয়ারি সুদসীমা লঙ্ঘনকারী আট ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, ‘বারবার নির্দেশ দেয়ার পরও স্প্রেডসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এটা দ্রুত ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।’ ব্যাংকগুলোকে ব্যবস্থা নিতে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘আস্থার সংকট এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে না। আবার বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি ব্যাংক মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সে কারণে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জের পাশাপাশি আমানতকারীদের ঠকাতে শুরু করে এসব ব্যাংক।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে এর প্রভাব তেমন একটা পড়ছে না। তবে একটা সময় আমানতকারীরা তাদের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করবে। তখন আমানত কমে যাবে। ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে না, ব্যবসাও কমে যাবে। ব্যাংকগুলো এখন হয়তো আমানতের সুদ কমিয়ে লাভ করছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এটা সম্ভব হবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের চার ব্যাংকের স্প্রেড পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপর অবস্থান করছে। গত নভেম্বর শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের ক্ষেত্রে গড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ হারে সুদ আদায় করেছে। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ সুদ, স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিদেশি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড এখনও পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ সুদ দিয়েছে। অন্যদিকে ঋণের বিপরীতে আদায় করেছে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর স্প্রেড সবচেয়ে বেশি, যা ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের আমানতের বিপরীতে গড়ে এক দশমিক ২২ শতাংশ সুদ দিয়েছে। আর ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ সুদ নিয়েছে। বিদেশি খাতের এ ব্যাংকটির স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংক আমানতের বিপরীতে সুদ দিয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ঋণের বিপরীতে নিয়েছে সুদহার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বেসরকারি খাতের এ ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এছাড়া উরি ব্যাংক গ্রাহকদের সুদ দিয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, আর নিয়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। এইচএসবিসি সুদ দিয়েছে ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ আর নিয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ডাচ্ বাংলা সুদ দিয়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ আর নিয়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া সুদ দিয়েছে ২ দশমিক ৯২ শতাংশ আর নিয়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। উত্তরা ব্যাংক সুদ দিয়েছে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ আর নিয়েছে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং সিটি ব্যাংক সুদ দিয়েছে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ আর নিয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েক বছরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ধীরে ধীরে কমছে আমানতের সুদহার। ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে ব্যাংকিং খাতে আমানতের গড় সুদের হার ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আর এর আগের বছর ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে ব্যাংক আমানতের গড় সুদহার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষে ব্যাংকিং খাতে আমানতের গড় সুদের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে ব্যাংক আমানতের গড় সুদহার ছিল ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত কয়েক বছর ধরে আমানতের সুদের হার কমার পাশাপাশি ঋণের সুদ হারও কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। তবে ঋণের চেয়ে আমানতের সুদ বেশি কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। যুগান্তর

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত