প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে অর্থমন্ত্রী
এক দশকে খেলাপি ঋণ ৬৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : গত ১০ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ১০ কোটি টাকার ওপর ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ হাজার ৭৯১। এর মধ্যে ঋণখেলাপি হয়েছে ১ হাজার ৯৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। খেলাপিদের কাছ থেকে আদায় হয়নি মোট ৬৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজে রক্ষিত ঋণ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গত ১০ বছরে ১০ কোটি টাকার বেশি পরিমাণ ব্যাংকঋণ নিয়েছে ৮ হাজার ৭৯১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

অর্থমন্ত্রী জানান, মোট ৯১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে মোট শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ৭২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী ঋণগ্রহীতা এবং ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের দুটি তালিকাও সংযোজন করেন।

১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়ে খেলাপি ১ হাজার ৯৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকায় উপরে রয়েছে মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লি., মেরিন ভেজিটেবল অয়েল লি., কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লি., ম্যাক্স স্পিনিং মিলস, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি., আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, চৌধুরী নিটওয়্যারস লি., সিদ্দিক ট্রেডার্স, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, আলাপ্পা কম্পোজিট টাওয়ালস লি., লিজেন্ড হোল্ডিংস, হলমার্ক ফ্যাশন লি., মুন্নু ফ্যাব্রিকস লি., ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, ফেয়ার ট্রেড ফ্যাব্রিকস লি., শাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েলস লি., কেয়া ইয়ার্ন মিলস লি., সালেহ কার্পেট মিলস লি., ফেয়ার ইয়ার্ন প্রোসেসিং লি., হেল্পিং রিসোর্স লি. ও বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লি.।

এদিকে সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সানজিদা খানমের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থায় এখনো যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। সেসব দুর্বলতা উত্তরণের চেষ্টা চালাচ্ছি। উত্তরণ এত জলদি হবে না, সময় লাগবে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ রোধ করতে সরকার খেলাপি গ্রাহকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সব ব্যাংকের ঋণ আদায়ের ইউনিটকে শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মিলনের এক প্রশ্নের উত্তরে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বেসিক ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ফারমার্স ব্যাংকে সংঘটিত দুর্নীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এক পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অপসারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ফারমার্স ব্যাংকের পুনর্গঠিত পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সভায় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে দেয়া ঋণ পুনরুদ্ধারে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়ে আমানতকারীদের আস্থা অর্জনে তত্পর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডিকেও অপসারণের পাশাপাশি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এবি ব্যাংকের যোগসাজশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে দুদক। বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত