প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ’লীগ ও বিএনপির তৃণমূল
কোন্দলে আটকে গেছে পুনর্গঠন

শাকিল : দলীয় কোন্দল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে আটকে আছে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠন। বারবার ঘোষণা দিয়েও এ প্রক্রিয়া শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে উভয় দলই। অনেক জেলায় সম্মেলন করা সম্ভব হলেও সংঘর্ষের আশঙ্কায় কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। আবার কোথাও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় দুই গ্রুপ। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করতে হয়েছে। আবার ঘোষিত ওই কমিটি নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ করার অভিযোগ উঠেছে দুই দলেই। এতে দলে গতি না এসে উল্টো সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা।

দুই দলের অসংখ্য জেলা কমিটি এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও পুনর্গঠনে তেমন তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করা না হলে আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৃণমূলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর। তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ দুই দলের নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। নানা কারণেই বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হয় না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোন্দল আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কোনো স্তরেই কমিটি না করার পক্ষে ক্ষমতাসীনরা। অন্যদিকে তৃণমূলে গতি আনতে পুনর্গঠনের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির পুনর্গঠন কাজ এগিয়ে চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন এবং আন্দোলনের জন্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বাকি জেলার পুনর্গঠন দ্রুতই শেষ করা হবে।

তৃণমূলের দ্বন্দ্ব নিরসনকে ‘অনেক কঠিন কাজ’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বুধবার বলেন, তারপরও এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তৃণমূল পুনর্গঠন ও যত দ্রুত সম্ভব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে।

আওয়ামী লীগ : বারবার উদ্যোগ নিয়েও তৃণমূল পুনর্গঠন কাজে ফলপ্রসূ হতে পারছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মূলে এমপি, মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতকেই দায়ী করছে দলটি। আর তৃণমূল নেতারা বলছেন, কেন্দ্র কঠোর নির্দেশনা দিলে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা প্রভাবশালীরা ঝরে পড়বে। তৃণমূল অগোছাল রেখে আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া দুষ্কর হবে বলেও জানান তারা।

আওয়ামী লীগের ৭৩টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। আপাতত কমিটি গঠনের কাজ স্থগিত রেখে কোন্দলপূর্ণ জেলা-উপজেলা নেতাদের সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামীকাল শুক্রবার থেকে সফরে যাওয়া ১৫টি সাংগঠনিক টিম এসব জেলা-উপজেলাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে বলে শোনা যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের ৮ বিভাগের কমপক্ষে ৩২টি জেলা ও শতাধিক উপজেলায় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চরমে। জয়পুরহাট, নাটোর, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, রংপুর, হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, নড়াইল, চট্টগ্রাম অন্যতম। বিগত দুই বছরে সারা দেশ সফর করে আসা কেন্দ্রীয় নেতারা এ তালিকা করেছেন। এসব জেলা-উপজেলায় একাধিকবার সম্মেলনের ডাক দিলেও তা সম্পন্ন করতে পারেনি দলটি। অনেক জায়গায় অসম্পূর্ণ রেখে তড়িঘড়ি করে কমিটি দেয়া হয়েছে। সেসব স্থানে দ্রোহের আগুন বেড়ে গেছে। নতুন-পুরাতনদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম সংকট। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর বিভাগে এ দ্বন্দ্ব বেশি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রায় ৩০ জেলায় দলীয় কোন্দলে গত ৭ মাসে কমপক্ষে ২৪ জনের প্রাণ গেছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়ার পরও তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না।

২০১৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পর থেকে তৃণমূল গোছানোর কাজ শুরু করেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তখন থেকেই সম্মেলন, কর্মিসভা শুরু করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে গোলযোগপূর্ণ ধরে ধরে তিনি সফর করেছেন অনেক জেলা। কোন্দলে জড়ানো নেতাদের নিয়ে একান্তে বৈঠকও করেন তিনি। কিন্তু অধিক কোন্দলপূর্ণ জেলাগুলোকে বাগে আনতে পারেননি ওবায়দুল কাদের। কোনো কোনো সম্মেলনে গিয়ে কোন্দলের কারণে ফিরেও আসতে হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে অনেক জেলা-উপজেলায় সম্মেলন হলেও হয়নি কোনো কমিটি। পুরাতন কমিটিই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকা। বিভিন্ন সম্মেলনে যাওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা-উপজেলাগুলোতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত এত বেশি যে, বেশকিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন তৃণমূল নেতারা। তাৎক্ষণিক কমিটি ঘোষিত হলে দ্বন্দ্ব আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেও অনেক জায়গায় কমিটি ঘোষণা হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত